ইসলামাবাদ ও খার্তুম: সুদানের সামরিক বাহিনী (SAF) এবং পাকিস্তানের মধ্যে ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি অস্ত্র চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। সুদানের বিমান বাহিনী প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আল-তাহির মোহাম্মদ আল-আওয়াদ আল-আমিনের পাকিস্তান সফরের সময় এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তির আওতায় যা যা থাকছে:
- যুদ্ধবিমান: চুক্তির প্রধান আকর্ষণ হলো ১০টি কারাকোরাম-৮ (K-8) লাইট অ্যাটাক ও প্রশিক্ষণ বিমান। এছাড়াও পাকিস্তানের তৈরি উন্নত জেএফ-১৭ (JF-17 Block III) যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়েও আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে।
- ড্রোন প্রযুক্তি: পাকিস্তান সুদানকে ২২০টিরও বেশি ড্রোন সরবরাহ করবে। এর মধ্যে রয়েছে শাহপার-২ (Shahpar-2), ইহাহ-৩ (YIHA-III), এমআর-১০কে (MR-10K) এবং আবাবিল-৫ (Ababeel-5) ড্রোন। এগুলো মূলত নজরদারি এবং আত্মঘাতী (Kamikaze) হামলার জন্য ব্যবহৃত হবে।
- বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা: আকাশপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাকিস্তান সুদানকে HQ-9 এবং HQ-6 বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করবে, যা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান ধ্বংস করতে সক্ষম।
- স্থল সরঞ্জাম: এছাড়া ১৫০টি ASV মুহাফিজ (Mohafiz) সাঁজোয়া যান এবং পুরনো মিগ-২১ (MiG-21) বিমানের ইঞ্জিনের পার্টসও এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত।
সুদানের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ধারণা করা হচ্ছে, এই চুক্তির অর্থায়ন করছে তৃতীয় কোনো দেশ (সম্ভবত সৌদি আরব)। এই চুক্তির ফলে উত্তর আফ্রিকায় পাকিস্তানের অস্ত্রের বাজার যেমন শক্তিশালী হচ্ছে, তেমনি সুদানের গৃহযুদ্ধে জেনারেল আল-বুরহানের নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনী বিদ্রোহী আরএসএফ-এর (RSF) তুলনায় আকাশপথে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই চুক্তির পেছনে তুরস্কের প্রচ্ছন্ন সমর্থন রয়েছে, কারণ তুরস্ক এবং পাকিস্তান উভয়ই সুদানের বর্তমান সামরিক সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে।
পাকিস্তানি সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তিটি পাকিস্তানের ইতিহাসে অন্যতম বড় অস্ত্র রপ্তানি চুক্তি, যা দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতাকে বিশ্বমঞ্চে নতুনভাবে তুলে ধরবে।



