কোপেনহেগেন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং সাম্প্রতিক সামরিক হুমকির মুখে ডেনমার্কের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এখন দ্বীপটির সুরক্ষায় ইউরোপীয় মিত্রদের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছে। ডেনমার্কের রক্ষণশীল ও বামপন্থী—উভয় শিবিরের নেতারাই এখন গ্রিনল্যান্ডে জার্মানি ও ফ্রান্সের সেনা মোতায়েনের পক্ষে সোচ্চার হয়েছেন।
- রাসমুস ইয়ারলভের কৌশলগত অবস্থান: ডেনমার্কের কনজারভেটিভ পার্টির প্রভাবশালী এমপি এবং প্রতিরক্ষা কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান রাসমুস ইয়ারলভ জার্মান পত্রিকা ওয়েল্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, গ্রিনল্যান্ডে শুধুমাত্র মার্কিন উপস্থিতির ওপর নির্ভর করা আর বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। তিনি মনে করেন, সেখানে জার্মানি ও ফ্রান্সের মতো ইউরোপীয় মিত্রদের স্বাগত জানানোই হবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কৌশলগতভাবে সবচেয়ে সঠিক পদক্ষেপ। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে গ্রিনল্যান্ডে পূর্ণ সামরিক প্রবেশাধিকার ভোগ করছে, তবুও তাদের এই আগ্রাসী মনোভাব “সম্পূর্ণ অর্থহীন”।
- পেলে ড্র্যাগস্টেডের কড়া হুঁশিয়ারি: ডেনমার্কের বামপন্থী দল ‘এনহেডসলিস্টেন’-এর নেতা পেলে ড্র্যাগস্টেড আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “আমেরিকানরা যেন মনে না করে যে, তারা স্রেফ হেলিকপ্টার নিয়ে নুক (Nuuk) শহরে নেমে পড়বে এবং মার্কিন পতাকা উড়িয়ে দিয়ে দ্বীপটি দখল করে নেবে।” তিনি গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইউরোপীয় সংহতির ওপর জোর দেন।
- প্রেক্ষাপট (ভেনেজুয়েলা প্রভাব): গত কয়েকদিনে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের পর ট্রাম্প আবারও গ্রিনল্যান্ডকে “যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য” বলে ঘোষণা করেছেন। এর পরপরই ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিফেন মিলারের স্ত্রী কেটি মিলার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মার্কিন পতাকায় মোড়ানো গ্রিনল্যান্ডের একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন— “শীঘ্রই” (SOON)। এই ঘটনাটি ড্যানিশ জনগণের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
- ইউরোপীয় প্রতিক্রিয়া: ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল ব্যারোট ইতিমধ্যে জানিয়েছেন যে, ডেনমার্ক অনুরোধ করলে ফ্রান্স গ্রিনল্যান্ডে সেনা পাঠাতে দ্বিধা করবে না। জার্মানিও এই বিষয়ে ডেনমার্ক ও অন্যান্য ইউরোপীয় অংশীদারদের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করছে বলে জানা গেছে।
ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের সেনাদের ‘শ্যুট ফার্স্ট’ (আগে গুলি করো) নীতি অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে, যাতে কোনো বৈদেশিক শক্তি গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা করলে তারা তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মাঝে ড্যানিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন স্পষ্ট করেছেন যে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয় এবং এটি কোনো রিয়েল এস্টেট ডিল হতে পারে না।



