আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু অবশেষে তার মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি জনসমক্ষে স্বীকার করেছেন। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তিনি জানান, প্রোস্টেট ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ে তিনি দীর্ঘ চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। বিবিসি’র বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ‘আমার দেশ অনলাইন’।
৭৬ বছর বয়সী এই ইসরায়েলি নেতা জানান, ২০২৪ সালের শেষ দিকে তার প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়ার কারণে একটি অস্ত্রোপচার করানো হয়েছিল। সেই সময় তার শরীরে ক্যানসারজনিত একটি ছোট টিউমার শনাক্ত হয়। তবে ইরানের সঙ্গে চলমান চরম উত্তেজনাপূর্ণ সংঘাতের সময় রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই গোপনীয়তা অবলম্বন করেছিলেন তিনি।
নেতানিয়াহু জানান, দেড় বছর আগে তিনি একটি বড় অস্ত্রোপচার করান, যা তখন ‘ক্ষতিকর নয়’ বলে দাবি করা হয়েছিল। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন। সর্বশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার প্রোস্টেটে এক সেন্টিমিটারেরও কম একটি ছোট দাগ ধরা পড়ে, যা পরীক্ষা করে চিকিৎসকরা প্রাথমিক পর্যায়ের ক্যানসার টিউমার হিসেবে নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, “চিকিৎসকেরা আমাকে দুটি বিকল্প দিয়েছিলেন—হয় চিকিৎসার মাধ্যমে এটি পুরোপুরি নিরাময় করা, অথবা এটিকে শরীরে নিয়েই জীবনযাপন করা। আপনারা আমাকে চেনেন, রাষ্ট্রীয় বিষয়ে হোক বা ব্যক্তিগত জীবনে—সম্ভাব্য কোনো ঝুঁকি থাকলে আমি তা দ্রুত মোকাবিলা করতে চাই। তাই আমি চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিই।”
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতিতে থাকায় নেতানিয়াহু তার বার্ষিক স্বাস্থ্য প্রতিবেদন প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি দাবি করেছেন, চিকিৎসা প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি পুরোপুরি সুস্থ। তিনি বলেন, “চিকিৎসা শেষে আমি সুস্থ হয়ে উঠেছি এবং এখন আমার শারীরিক অবস্থা ‘খুব ভালো’।”
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরে নেতানিয়াহুর শারীরিক অবস্থা নিয়ে ইসরায়েলের ভেতরে ও বাইরে নানা গুঞ্জন চলছিল। বিশেষ করে গাজা ও লেবাননে চলমান সামরিক অভিযানের মধ্যে তার বারবার হাসপাতাল সফর নিয়ে বিরোধীরা তথ্য গোপন করার অভিযোগ তুলে আসছিলেন। এই স্বীকারোক্তির মাধ্যমে সেই দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটল।



