ওয়াশিংটন ডি.সি. — ভেনেজুয়েলার প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা এবং ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠকটি কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি ছাড়াই শেষ হয়েছে। বুধবার হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে বিশ্লেষকরা মাচাদোর জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন।
মাচাদো ও তার সমর্থকদের আশা ছিল, এই বৈঠকের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ভেনেজুয়েলায় পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের পক্ষে কঠোর অবস্থান নেবে। তবে হোয়াইট হাউস বৈঠকটিকে নিছক একটি ‘শিষ্টাচারমূলক সাক্ষাৎ’ বা সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যমতে, ট্রাম্প প্রশাসন এখন মাচাদোর বদলে ভেনেজুয়েলার বর্তমান কার্যনির্বাহী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গেই কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে। ট্রাম্পের স্পষ্ট সংকেত—তিনি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের চেয়ে ভেনেজুয়েলার বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও জ্বালানি স্থিতিশীলতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
ট্রাম্পের বর্তমান নজর ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদের ওপর। রদ্রিগেজ প্রশাসন মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর জন্য কাজ করার এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে নমনীয় মনোভাব দেখানোর ফলে ট্রাম্পের কাছে মাচাদোর ‘রাজনৈতিক রূপান্তরের’ দাবিটি পিছিয়ে পড়েছে। ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এমনও আভাস পাওয়া গেছে যে, মাচাদোর বর্তমানে ভেনেজুয়েলা পরিচালনার মতো যথেষ্ট রাজনৈতিক সমর্থন নেই।
বৈঠক শেষে মাচাদো গণমাধ্যমকে জানান, তিনি ট্রাম্পকে নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি উপহার দিয়েছেন। কিন্তু ট্রাম্প সেই পদক গ্রহণ করেছেন কি না বা এর বিনিময়ে কোনো রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। মাচাদো সমর্থকদের সামনে “আমরা ট্রাম্পের ওপর ভরসা করতে পারি” বললেও, হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটের বক্তব্যে ভিন্ন সুর পাওয়া গেছে। লেভিট জানান, ট্রাম্পের মূল্যায়ন অনেক বেশি ‘বাস্তববাদী’ এবং তিনি বর্তমান পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চেয়ে সস্তায় জ্বালানি তেল এবং মার্কিন বিনিয়োগ সুরক্ষিত রাখাই এখন মূল অগ্রাধিকার। ফলে মাচাদোকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানানো হলেও, কার্যক্ষেত্রে তাকে একরকম ব্রাত্যই রাখা হয়েছে।



