১১ জানুয়ারি, ২০২৬ | বর্তমান প্রেক্ষাপটে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনা কেবল একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি এখন দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটে এক বড় ভূ-রাজনৈতিক সংকটে রূপ নিয়েছে।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও সুপার (Geo Super)-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসি-কে জানিয়েছে যে, তারা বাংলাদেশের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো আয়োজন করতে প্রস্তুত।
পিসিবি জানিয়েছে শ্রীলঙ্কায় যদি পর্যাপ্ত ভেন্যু না থাকে, তবে পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক মানের ভেন্যুগুলো (করাচি, লাহোর, রাওয়ালপিন্ডি) সম্পূর্ণ প্রস্তুত। পাকিস্তান সাম্প্রতিক সময়ে ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি সফলভাবে আয়োজন করে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।
আইপিএল ২০২৬-এর নিলামে কেকেআর ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মোস্তাফিজকে দলে নিলেও, হঠাৎ করেই বিসিসিআই-এর নির্দেশে তাকে বাদ দেওয়া হয়। ভারতে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর চাপের মুখে বিসিসিআই এই সিদ্ধান্ত নেয়।
পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার রশিদ লতিফ সোশ্যাল মিডিয়া ‘এক্স’-এ ভারতের সমালোচনা করে লিখেছেন, ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিতে পারলেও মোস্তাফিজকে নিরাপত্তা দিতে পারছে না—এটি একটি স্পষ্ট ‘দ্বিচারিতা’।
ক্রীড়া ও আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং বিসিবি সভাপতি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তারা ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা ও দেশের মর্যাদার প্রশ্নে কোনো আপস করবেন না। বাংলাদেশ তাদের বিশ্বকাপের ৪টি ম্যাচ (৩টি কলকাতায় ও ১টি মুম্বাইয়ে) ভারতের বাইরে অন্য আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কায় খেলতে চায়। বিসিবি ইতোমধ্যে আইসিসি-কে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছে। আইসিসি বিষয়টি পর্যালোচনা করছে বলে জানা গেলেও এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি।
বাংলাদেশ গ্রুপ ‘সি’-তে রয়েছে। বর্তমান সূচি অনুযায়ী তাদের ম্যাচগুলো ছিল:
- ৭ ফেব্রুয়ারি: বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ (ইডেন গার্ডেন্স, কলকাতা)
- ৯ ফেব্রুয়ারি: বনাম ইতালি (ইডেন গার্ডেন্স, কলকাতা)
- ১৪ ফেব্রুয়ারি: বনাম ইংল্যান্ড (ইডেন গার্ডেন্স, কলকাতা)
- ১৭ ফেব্রুয়ারি: বনাম নেপাল (ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম, মুম্বাই)
ভারত যেমন নিরাপত্তার অযুহাতে পাকিস্তানে যায় না, এখন বাংলাদেশও একই অযুহাতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড়। এর ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপেও ভারত-পাকিস্তান এশিয়া কাপের মতো একটি ‘হাইব্রিড মডেল’ দেখার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।



