ঢাকা | ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কার কথা জানিয়েছে খোদ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল দাবি করেছেন, আইসিসির পাঠানো এক চিঠিতে মুস্তাফিজুর রহমানকে স্কোয়াডে রাখা হলে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়বে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আসিফ নজরুল আইসিসির নিরাপত্তা দলের ওই চিঠির তিনটি মূল পয়েন্ট তুলে ধরেন: ১. মুস্তাফিজ ইস্যু: বাংলাদেশ দলে যদি বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান অন্তর্ভুক্ত থাকেন, তবে দলের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়বে। ২. জার্সি বিতর্ক: বাংলাদেশের সমর্থকরা যদি জাতীয় দলের জার্সি পরে ভারতের রাস্তায় ঘোরাফেরা করেন, তবে তাদের ওপর হামলার আশঙ্কা রয়েছে। ৩. নির্বাচন ও রাজনীতি: বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, ভারতে বাংলাদেশ দলের ওপর নিরাপত্তা হুমকি তত বেশি বৃদ্ধি পাবে।
ক্রীড়া উপদেষ্টা ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘উগ্র সাম্প্রদায়িক’ ও ‘বাংলাদেশ বিদ্বেষী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন “আইসিসি যদি আশা করে আমরা আমাদের শ্রেষ্ঠ বোলারকে বাদ দিয়ে টিম করব, আমাদের সমর্থকরা জার্সি পরতে পারবে না—তাহলে এর চেয়ে উদ্ভট ও অবাস্তব প্রত্যাশা আর হতে পারে না। মুস্তাফিজের আইপিএল পর্ব এবং এই চিঠির মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে ভারতে খেলার কোনো পরিবেশ নেই।”
আইসিসি ভারতের অভ্যন্তরীণ ভেন্যু পরিবর্তনের (কলকাতা ও মুম্বাই থেকে চেন্নাই ও ত্রিভেন্দ্রম) চিন্তা করলেও বাংলাদেশ এতে সন্তুষ্ট নয়। আসিফ নজরুল স্পষ্ট করে বলেন, “ভারত মানে তো ভারতই। যদি ভেন্যু সরাতেই হয় তবে তা ভারতের বাইরে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান কিংবা আরব আমিরাতে নেওয়া হোক।” উল্লেখ্য যে, পাকিস্তান ইতিমধ্যে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো আয়োজন করার প্রস্তাব দিয়েছে বলে খবর চাউর হয়েছে।
আইসিসির এই সংবেদনশীল চিঠির বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমুল আবেদিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের ম্যানেজার শাহরিয়ার নাফীস জানান, বিষয়টি সরাসরি বিসিবি সভাপতি ও প্রধান নির্বাহীর এখতিয়ারভুক্ত।
সম্প্রতি ভারতের উগ্রপন্থী রাজনীতিকদের বিরোধিতার মুখে আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স মুস্তাফিজকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকার দেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশ দেয় এবং ভারত থেকে বিশ্বকাপ সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানায়।



