ওয়াশিংটন: ভেনেজুয়েলার ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একতরফা সামরিক বা কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত করতে একটি বিলের ওপর ভোটাভুটি করতে যাচ্ছে মার্কিন সিনেট। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি, ২০২৬) এই ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে। মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের ভেনেজুয়েলা কেন্দ্রিক আগ্রাসী নীতি নিয়ে উদ্বেগ থেকেই এই দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের পরোক্ষ হুমকি এবং কঠোর নিষেধাজ্ঞার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যা দেশটির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলে অনেক মার্কিন আইনপ্রণেতা মনে করছেন। ডেমোক্র্যাট ও কিছু রিপাবলিকান সিনেটর মনে করেন, ভেনেজুয়েলার মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে প্রেসিডেন্টের একক সিদ্ধান্তের চেয়ে কংগ্রেসের তদারকি ও অনুমোদন থাকা জরুরি।

প্রস্তাবিত এই বিলে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলায় কোনো ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা বা বড় ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার আগে প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নিতে হবে। আইনপ্রণেতাদের মতে, এটি কেবল ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা নয়, বরং দক্ষিণ আমেরিকায় বড় ধরনের কোনো মানবিক বা ভূ-রাজনৈতিক সংকট এড়াতে এই পদক্ষেপ প্রয়োজন।

হোয়াইট হাউস অবশ্য এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, প্রেসিডেন্টের পররাষ্ট্র নীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে এই ধরনের বিধিনিষেধ জাতীয় নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করতে পারে এবং শত্রুপক্ষকে সুবিধা দেবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোটাভুটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের পররাষ্ট্র নীতির ওপর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি বড় পরীক্ষা। যদি বিলটি পাস হয়, তবে ভেনেজুয়েলার নিকোলাস মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ (Maximum Pressure) প্রয়োগের কৌশল বড় ধরনের বাধার মুখে পড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts