দেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসার ব্যয় কমিয়ে আনতে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এখন থেকে জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় ওষুধের সংখ্যা ১৬০টি থেকে বাড়িয়ে ২৯৫টি করা হয়েছে। এই তালিকার সবগুলো ওষুধ এখন থেকে সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে হবে।

গত বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ওষুধের এই হালনাগাদ তালিকা এবং ওষুধ মূল্য নির্ধারণ নীতিমালার অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান এই তথ্য জানান।

নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্যান্সার ও ডায়াবেটিসের মতো অসংক্রামক রোগসহ বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধির প্রয়োজনীয় ১৩৫টি ওষুধ নতুন করে এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে। ডা. সায়েদুর রহমান জানান, এই ২৯৫টি ওষুধ দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণ করবে এবং সাধারণ রোগের চিকিৎসার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে।

অনুমোদিত নীতিমালা অনুযায়ী, সরকার এই ২৯৫টি ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে দেবে। এর বাইরে বাজারে থাকা অন্যান্য ওষুধের দামও সরকারের গাইডলাইন অনুসারে নিয়ন্ত্রিত হবে, যেখানে কোম্পানিগুলো নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ কম বা বেশি দামে ওষুধ বিক্রি করতে পারবে। তবে কোনো কোম্পানি নিজের ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করতে পারবে না।

স্বাস্থ্য খাতে মানুষের মোট ব্যয়ের বড় একটি অংশ ওষুধের পেছনে চলে যায়। সাধারণ মানুষের নাগালে মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দিতেই সরকার এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts