তেহরান | ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির প্রধান প্রধান শহরগুলো আজ “লাব্বাইকা খামেনেই” স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছে। গত কয়েক দিনের সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর আজ দেশজুড়ে সরকারপন্থী সাধারণ জনগণ ও রক্ষণশীল গোষ্ঠীগুলো বিশাল সমাবেশের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি তাদের আনুগত্য প্রদর্শন করেছেন।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, তেহরানের পাশাপাশি মাশহাদ, ইস্পাহান, আদ্রেবিল, আরাক এবং এমনকি অশান্ত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত সিস্তান-বেলুচিস্তানের যাহেদান শহরেও সরকারের পক্ষে বিশাল র্যালি বের করা হয়েছে। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা খামেনির ছবি এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতাকা হাতে বিক্ষোভকারীদের “বিদেশি মদদপুষ্ট এজেন্ট” হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আজ বিক্ষোভকারীদের একটি অংশের মুখোমুখি হয়ে খামেনির নেতৃত্বের প্রতি তার দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে, কিন্তু বহিঃশক্তির উস্কানিতে কোনো নাশকতা বরদাশত করা হবে না। পেজেশকিয়ান বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর নির্দেশ দিলেও খামেনির নীতির প্রতি তার সরকার একাত্ম বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান গতকাল এক সাক্ষাৎকারে ইরানি জনগণের শান্ত ও ধীরস্থির চিন্তাভাবনার প্রশংসা করে বলেছিলেন, এই বিক্ষোভ খামেনির ভিত্তি নাড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। আজকের সমাবেশগুলো ফিদানের সেই মন্তব্যেরই প্রতিফলন ঘটাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো ইরানি বিক্ষোভকে যেভাবে ‘মোল্লাতন্ত্রের পতন’ হিসেবে চিত্রায়িত করার চেষ্টা করেছে, আজকের সরকারপন্থী বিশাল জমায়েত সেই বয়ানকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
পশ্চিমা দেশগুলো এবং বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিলেও, ইরানের সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ এখনো ধর্মীয় নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখছে বলে মনে হচ্ছে। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি আজ এক ভাষণে আবারও বলেন, “ট্রাম্পের হাত ইরানিদের রক্তে রাঙা; তিনি প্রাচীন ফেরাউনদের মতোই পতনের মুখে পড়বেন।”



