আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে এক অভাবনীয় রাজনৈতিক উত্থানের সাক্ষী হচ্ছে বিশ্ব। রুপালি পর্দার সুপারস্টার থালাপাতি বিজয়ের নবগঠিত দল ‘তামিলনাগা ভেট্টি কাজাগাম’ (টিভিকে) তাদের প্রথম নির্বাচনেই বড় ধরনের চমক দেখিয়ে জয়ের পথে এগিয়ে রয়েছে। ভোট গণনার সবশেষ তথ্যানুযায়ী, ডিএমকে ও এআইএডিএমকে-এর মতো প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে পেছনে ফেলে বিজয় এবং তাঁর দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে ধাবিত হচ্ছে।
তামিলনাড়ুর ২৩৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ২২৪টি আসনের প্রাথমিক প্রবণতা পাওয়া গেছে। সবশেষ খবর অনুযায়ী:
টিভিকে (TVK): বিজয়ের দল ১০৫টি আসনে এগিয়ে রয়েছে।
ডিএমকে (DMK): ক্ষমতাসীন এম কে স্ট্যালিনের দল ৫৮টি আসনে এগিয়ে আছে এবং ১টি আসনে জয়লাভ করেছে।
এআইএডিএমকে (ADMK): প্রধান বিরোধী দল ৫২টি আসনে এগিয়ে রয়েছে।
পিএমকে (PMK): ৪টি আসনে এগিয়ে রয়েছে।
আইএনসি (INC): কংগ্রেস ৩টি আসনে এগিয়ে আছে এবং ১টি আসনে জয়ী হয়েছে।
তামিল রাজনীতির দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে বিজয়ের এই উত্থানকে ঐতিহাসিক হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। গত কয়েক দশক ধরে তামিলনাড়ুর ক্ষমতা কেবল ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-এর মধ্যেই আবর্তিত হয়েছে। কিন্তু বিজয়ের ‘দুর্নীতিমুক্ত ও জনকল্যাণমুখী’ রাজনীতির প্রতিশ্রুতি তরুণ প্রজন্ম ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে পেরাম্বুর, তিরুচি ইস্ট এবং মাইলাপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে বিজয়ের দলের প্রার্থীরা শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন।
গণনার শুরু থেকেই টিভিকে প্রার্থীরা এগিয়ে থাকায় চেন্নাইসহ রাজ্যজুড়ে বিজয় সমর্থকদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। দলীয় কার্যালয়ের সামনে হাজার হাজার সমর্থক ‘থালাপাতি’ স্লোগানে আকাশ-বাতাস মুখরিত করে তুলছেন। যদিও চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা হতে এখনো কিছুটা সময় বাকি, তবে প্রাথমিক এই প্রবণতা বজায় থাকলে বিজয়ই হতে যাচ্ছেন তামিলনাড়ুর পরবর্তী শাসনভারের মূল নিয়ন্ত্রক।
বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের নেতৃত্বাধীন ডিএমকে জোটের জন্য এই ফলাফল একটি বড় ধাক্কা। এন্টি-ইনকাম্বেন্সি বা সরকার বিরোধী হাওয়া এবং বিজয়ের নতুন ভাবমূর্তির কাছে বর্তমান সরকার কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপি এবং এআইএডিএমকে-ও লড়াইয়ে থাকলেও টিভিকে-র জলোচ্ছ্বাসের সামনে তারা ম্লান হয়ে গেছে।
চূড়ান্ত ফলাফলে টিভিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে কি না, অথবা সরকার গঠনে জোটের প্রয়োজন হয় কি না—এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে গোটা ভারত।



