খুলনায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন কার্যত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। তীব্র গরমের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন নগরবাসী ও আশপাশের এলাকার মানুষ।

দিনের বেলায় তাপমাত্রা বাড়ার পাশাপাশি রাতেও মিলছে না স্বস্তি। ঠিক সেই সময়েই শুরু হচ্ছে দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুমাতে পারছেন না অনেকেই। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন একাধিকবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অনেকেই জানান, পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটছে। এর প্রভাব পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থার পক্ষ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম থাকায় সাময়িকভাবে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের বরাত দিয়ে প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী রোকন উজ্জামান জানান, ১৬ এপ্রিল সকাল ১০টায় খুলনায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৬৫৩ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ৫৫০ মেগাওয়াট। এতে লোডশেডিং দাঁড়ায় ১০৩ মেগাওয়াট।

এর আগে ১৫ এপ্রিল দুপুর ১টায় চাহিদা ছিল ৭৫০ মেগাওয়াট, সরবরাহ ছিল ৫৭২ মেগাওয়াট—লোডশেডিং ১৭৮ মেগাওয়াট। একই দিন রাত ৯টায় চাহিদা ছিল ৬৮৬ মেগাওয়াট, সরবরাহ ৫৪২ মেগাওয়াট, লোডশেডিং হয় ১৪৪ মেগাওয়াট।

এ পরিস্থিতিতে দ্রুত স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তীব্র গরমের এই সময়ে লোডশেডিং কমাতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

শেখপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. সোলায়মান বলেন, “দিন-রাত সমান তালে লোডশেডিং চলছে। এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। গরমে শিশুরা খুব কষ্টে আছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts