ওয়াশিংটন ডি.সি. | ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে তেহরানের কঠোর অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে দেশটিতে সীমিত সামরিক হামলার পরিকল্পনা ও বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস (NYT) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তারা গত কয়েক দিনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিভিন্ন ‘অপশন’ বা বিকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদিও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তবে ট্রাম্প বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন। সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী বা যারা বিক্ষোভ দমনে সরাসরি জড়িত, তাদের সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে সুনির্দিষ্ট (targeted) হামলা। আলোচনার টেবিলে তেহরানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক বা কৌশলগত স্থাপনাকেও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে রাখা হয়েছে, যা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

তবে এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে পেন্টাগন ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে সামরিক হামলা হলে ইরানি জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবাদী আবেগ তৈরি হতে পারে, যা প্রকারান্তরে বর্তমান সরকারের পক্ষেই জনসমর্থন বাড়াতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনা এবং বিভিন্ন দেশের মার্কিন স্বার্থের ওপর ইরান বা তাদের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো পাল্টা হামলা চালাতে পারে। সামরিক কমান্ডাররা জানিয়েছেন, ইরানের পক্ষ থেকে বড় ধরনের কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া এলে তা মোকাবিলা করার জন্য মার্কিন বাহিনীকে আরও সময় ও সামরিক প্রস্তুতি নিতে হবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ইরানি বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানিয়ে লিখেছেন, “ইরান এখন স্বাধীনতার দেখা পাচ্ছে, যা আগে কখনো হয়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সাহায্যের জন্য প্রস্তুত!” এছাড়া তিনি সতর্ক করে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না।

২০২৫ সালের জুন মাসে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক চরম উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে। বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ইরানে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ দমনে দেশটির সরকার ইন্টারনেট বন্ধসহ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। স্থানীয় সূত্রমতে, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে গত কয়েক দিনে বহু বিক্ষোভকারী হতাহত হয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts