ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাবে এশিয়াজুড়ে চরম অর্থনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ঘরে বসে কাজ, জ্বালানি তেলের দীর্ঘ লাইন আর ঘন ঘন লোডশেডিং-এশিয়ার দেশগুলোতে এখন নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। উদ্ভূত জ্বালানি সংকট থেকে নিজ নিজ অর্থনীতিকে বাঁচাতে হিমশিম খাচ্ছে সরকারগুলো।

জ্বালানি তেলের সংকট মোকাবিলায় কোনো কোনো দেশ রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে। আবার কোনো দেশ ভর্তুকি পুনরায় চালু করছে কিংবা পণ্য রপ্তানিতে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল যত দিন বিঘ্নিত হবে, এশিয়ার পরিস্থিতি তত বেশি শোচনীয় হবে।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়তে থাকায় এশিয়ার দেশগুলোর আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। একই সময়ে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় কমে যাওয়ায় দুর্বল হয়ে পড়েছে স্থানীয় মুদ্রার মান। ডলারের দামে জ্বালানি, খাদ্য, সার এবং বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে গিয়ে দেশগুলোর ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে।

এই সংকট সামাল দিতে অনেক দেশ তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ খরচ করতে বাধ্য হচ্ছে। অনেকে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চড়া সুদে ঋণ নিচ্ছে, আবার কেউ কেউ অন্যান্য খাতের বাজেট কাটছাঁট করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে। সব মিলিয়ে এক গভীর অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে এশিয়া মহাদেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts