যথাযথ মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে কানাডার অটোয়ায় ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস, ২০২৬ উদ্‌যাপিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে শনিবার অটোয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন কর্তৃক আয়োজিত এক কূটনৈতিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কানাডার সংসদ সদস্যবৃন্দ, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদীয় সচিব রবার্ট অলিফ্যান্ট।

হাইকমিশনার মো. জসীম উদ্দিন তার স্বাগত বক্তব্যে ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ, নির্যাতিতা বীরাঙ্গনা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। 

এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতা কেবল একটি লক্ষ্য নয়, বরং এটি একটি নিরন্তর দায়িত্ব। 

হাইকমিশনার বলেন, গত ৫৫ বছর যাবৎ বাংলাদেশ এই স্বাধীনতাকে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রূপান্তরের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রধান অতিথি রবার্ট অলিফ্যান্ট তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ ক্রমান্বয়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিশ্বমঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য স্বীকৃত একটি রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে।

তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ভূমিকা এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচকে দেশটির অগ্রগতির প্রশংসা করেন। 

ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে আনুষ্ঠানিকভাবে কেক কাটা হয়, যা উদ্‌যাপনে এক উৎসবমুখর মাত্রা যোগ করে। 

এ সময় প্রধান অতিথি রবার্ট অলিফ্যান্ট, কানাডা-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের সভাপতি ব্র্যাড রেডেকপ এবং ডিপ্লোম্যাটিক কোরের ডিন ও মরক্কোর রাষ্ট্রদূত হাইকমিশনারের সঙ্গে যোগ দেন। 

এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশি শিল্পীদের পরিবেশনায় ‘বাংলাদেশ: বারো মাসে তেরো পার্বণ’ শীর্ষক একটি আকর্ষণীয় নৃত্যনাট্য প্রদর্শিত হয়। 

বাংলাদেশের ঋতুচক্র ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এ নান্দনিক উপস্থাপন অতিথিদের মুগ্ধ করে।

এর আগে সকালে বাংলাদেশ হাউসে মিশনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে হাইকমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। 

অনুষ্ঠানের শুরুতে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সব শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts