কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় জামিলাতুন্নেছা মহিলা মাদ্রাসার ১১ বছর বয়সী এক আবাসিক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসার পরিচালক ও প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা সাইদুর রহমানকে সোমবার রাতে আটক করেছে । তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত সাইদুর রহমানকে আটক করে মামলা করে মঙ্গলবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার ও ভেড়ামারা থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পার্শ্ববর্তী দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের বাসিন্দা ওই শিশুটি প্রায় ৮ মাস আগে ভেড়ামারা শহরের মধ্য বাজার স্বর্ণকার পট্টি এলাকার জামিলাতুন নেছা আদর্শ মহিলা হাফিজিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হয়। মাদ্রাসাটির দ্বিতীয় তলায় আবাসিক ছাত্রী হোস্টেল এবং নিচতলায় স্বপরিবারে থাকতেন অভিযুক্ত পরিচালক সাইদুর রহমান।

গত রোববার মাদ্রাসার ছুটির দিনে শিশুটির মা তাকে নিতে আসলে বিষয়টি জানাজানি হয়। সুপারের স্ত্রী প্রথমে শিশুটির জ্বরের কথা জানালেও হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে দ্রুত তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। বর্তমানে শিশুটি সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবারের আহাজারি ভুক্তভোগী শিশুটির মা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “ভর্তির সময় এখানে ৪০-৪৫ জন ছাত্রী ছিল, এখন মাত্র সাতজন আছে। ওরা আমার মেয়ের জীবন শেষ করে দিয়েছে। আমি এই নরপশুর কঠিন বিচার চাই।”

শিশুটির বাবা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কোরআন শেখার জন্য মেয়েকে মাদ্রাসায় দিয়েছিলাম। এমন সর্বনাশ যেন আর কারো না হয়। এরা পশুর চেয়েও জঘন্য।”

ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার পল্লব সাহা বলেন, মেয়েটির পরিবার অভিযোগ তুলেছে, মেয়েটি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। উপজেলার হাসপাতালে এই পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ অপ্রতুল থাকায় পরিবার তাদের পরিচিত একজন চিকিৎসকের পরামর্শে মেয়েটিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রামেক হাসপাতা‌লের মে‌ডি‌সিন বিভা‌গের এক চি‌কিৎসক ব‌লেন, ‘মে‌য়ে‌টির অক্সি‌জেন স‌্যাচু‌রেশন নিম্নগামী। এতে শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ায় অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। এখন মে‌ডি‌সিন ওয়া‌র্ডে চি‌কিৎসা চল‌ছে। এর আগে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস ‌সেন্টা‌রে পরীক্ষা-‌নিরীক্ষা ক‌রা হ‌য়ে‌ছে। সেখা‌নে দা‌য়িত্বরত চি‌কিৎসক যৌনা‌ঙ্গে ইন্টারনাল ইনজুরি পেয়েছেন। যার কার‌ণে শরী‌রে ইন‌ফেকশন ছ‌ড়ি‌য়ে প‌ড়ে‌ছে। এতে স‌ন্দেহ করা হ‌চ্ছে, যৌন নির্যাত‌নের ম‌তো কোনো ঘটনা ঘ‌টে‌ছে।’

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মাদ্রাসার দায়িত্বে থাকা পরিচালকের স্ত্রী শামীমা খাতুন বলেন, ‘নির্যাতন কিংবা যৌন নির্যাতনের অভিযোগ সঠিক নয়। মেয়েটির জ্বর এসেছিল, সেটা তার মা আসার পর জানতে পেরেছি। এর আগে এমন কিছু দেখি নাই। ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হচ্ছে। সেই সাথে আমার মাদ্রাসা টা কে ধ্বংস করতে এই চক্রান্ত।

জনমনে প্রশ্ন তারা যদি কিছু নাই করবে তবে মেয়েটি অসুস্থ হলো কি করে? এনিয়ে পক্ষ বিপক্ষে নানা আলোচনা সমালোচনার ঝড় সৃষ্টি হয়েছে।

এবিষয়ে ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত সাইদুর রহমান কে আটক করে মামলা করে মঙ্গলবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts