মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে টর্চলাইট জ্বালিয়ে ফের সংঘর্ষে জড়াল দুই পক্ষ। এ সময় শতাধিক হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। রোববার রাত ৯টা থেকে ১টা পর্যন্ত টানা চার ঘণ্টাব্যাপী পৌরসভার ‘নতুন মাদারীপুর’ এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের সময় হাতবোমা বিস্ফোরণের কয়েকটি ভিডিও ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে মাদারীপুর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড ‘নতুন মাদারীপুর’ এলাকায় সাবেক কাউন্সিলর আক্তার হাওলাদার ও তার ভাই লিটন হাওলাদারের সঙ্গে একই এলাকার মাদারীপুর সদর উপজেলা শ্রমিক দলের একাংশের সভাপতি নিহত শাকিল মুন্সীর ভাই হাসান মুন্সি ও তার পক্ষের আলামিন চৌকিদার গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শাকিল মুন্সী হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রায়ই সংঘর্ষে জড়ায় দুই পক্ষ। এরই জেরে রোববার রাত ৯টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত টানা ৪ ঘণ্টা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে চলে সংঘর্ষ। এ সময় শতাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। মূলত এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায়ই সংঘর্ষে জড়ায় দুই পক্ষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর পৌর আওয়ামী লীগের একাংশের সাধারণ সম্পাদক ও ২ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদারের ছোট ভাই যুবলীগ নেতা লিটন হাওলাদারকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মাদারীপুর পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি করা হয়। এ কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সদর উপজেলা শ্রমিক দলের একাংশের সভাপতি শাকিল মুন্সির সঙ্গে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয় আক্তার হাওলাদার ও লিটন হাওলাদারের। এ ছাড়াও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে একই এলাকার রুবেল হাওলাদারের বংশের লোকের সঙ্গে আক্তার হাওলাদারের দ্বন্দ্ব ছিল। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদার দীর্ঘদিন কারাগারে থাকেন। ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ ওই মামলার শুনানি ছিল । সেদিন তার সমর্থকদের ধারণা ছিল কারাবন্দি আক্তার হাওলাদার জামিনে মুক্তি পাবেন। তাকে বরণ করে নিতে আদালত চত্বরে হাজির হন তার সমর্থকেরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে ওই দিন (গত বছরের ২৩ মার্চ) দুপুরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়াসহ দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পরপর রোববার বিকেলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। পরে ওই দিন রোববার রাতে রুবেল হাওলাদারের সমর্থক উপজেলা শ্রমিক দলের একাংশের সভাপতি শাকিল মুন্সিকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।

নিহতের পরিবারের দাবি, লিটন হাওলাদার, আল-আমিন হাওলাদার, জাহাঙ্গীর হাওলাদারসহ বেশ কয়েকজন হামলা করে শাকিলকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানেই চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যান শাকিল। এরপর থেকেই মূলত এই এলাকা দুই পক্ষের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গত এক বছরে ১০ বারের বেশি সংঘর্ষ হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts