রমজান মাস ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র ও বরকতময় সময়। এ মাসে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা রাখা ফরজ। রোজা শুধু ক্ষুধা ও তৃষ্ণা থেকে বিরত থাকা নয়—বরং আত্মসংযম, তাকওয়া অর্জন, ধৈর্য ও মানবিকতার চর্চার এক অনন্য সুযোগ। সাহরী ও ইফতার রোজার দুটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেগুলোর রয়েছে নির্দিষ্ট নিয়ম ও সুন্নাহসম্মত আদব।
সাহরীর নিয়ম ও আদব:
- সাহরী খাওয়া সুন্নাহ অল্প হলেও সাহরী করা বরকতময়।
- সময়: সুবহে সাদিকের আগে পর্যন্ত সাহরীর সময় থাকে। দেরি করে (ফজরের কাছাকাছি) সাহরী করা উত্তম।
- পরিমিত খাবার: অতিরিক্ত না খেয়ে সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা ভালো।
- নিয়ত: অন্তরে রোজার নিয়ত রাখা জরুরি।
ইফতারের নিয়ম ও আদব:
- সময় হলেই দ্রুত ইফতার করা সুন্নাহ।
- খেজুর বা পানি দিয়ে ইফতার শুরু করা উত্তম।
- ইফতারের আগে ও পরে আল্লাহর কাছে দু’আ করা।
- অপচয় ও অতিভোজন পরিহার করা।
- অন্যকে ইফতার করানো সওয়াবের কাজ।
ইফতারের দু’আ:
আরবি: اللّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ
উচ্চারণ:আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু
অর্থ:হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেওয়া রিজিক দিয়ে ইফতার করলাম।
আরেকটি প্রসিদ্ধ দু’আ:
আরবি: ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
উচ্চারণ:যাহাবাজ-যামা’উ ওয়াবতাল্লাতিল উরূকু ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশা আল্লাহ
অর্থ:পিপাসা দূর হলো, শিরা-উপশিরা সিক্ত হলো এবং আল্লাহ চাইলে সওয়াব নিশ্চিত হলো।
রমজান আত্মশুদ্ধি, সংযম ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাস। সাহরী ও ইফতার শুধু খাবারের সময় নয়—এগুলো ইবাদতের অংশ, বরকত লাভের বিশেষ মুহূর্ত। সুন্নাহ অনুযায়ী আমল ও আন্তরিক দু’আ রোজাকে করে তোলে আরও অর্থবহ।
মোঃ সাব্বির ইসলাম



