শাহরিয়ার খান নাফিজ, হবিগঞ্জ :

শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সামনে এলেই শহীদ মিনার ঘিরে শুরু হয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও আনুষ্ঠানিকতার প্রস্তুতি। কিন্তু বছরের বাকি সময়জুড়ে হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার দুই গুরুত্বপূর্ণ শহীদ মিনার পড়ে থাকে অবহেলা ও অযত্নে। ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পেরিয়ে গেলেও বনিয়াচং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এবং জনাব আলী সরকারি কলেজ শহীদ মিনারের বর্তমান অবস্থা স্থানীয়দের মনে গভীর উদ্বেগ ও হতাশা সৃষ্টি করেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহীদ মিনারের সিঁড়ি ও বেদির আশপাশে জমে আছে ময়লা–আবর্জনা। আবর্জনা না ফেলার নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিনই এখানে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে ভাষা শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই স্থানগুলো ধীরে ধীরে আবর্জনার স্তূপে পরিণত হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, বছরের অধিকাংশ সময় শহীদ মিনারগুলোর দিকে তেমন নজর দেওয়া হয় না কেবল ২১ ফেব্রুয়ারি এলেই সীমিত পরিসরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সাজসজ্জা করা হয়। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়।

জনাব আলী সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক ও প্রগতিশীল লেখক নির্মল দেব বলেন, “শহীদ মিনার শুধুমাত্র একটি স্মৃতিস্তম্ভ নয়, এটি আমাদের ভাষা সংস্কৃতি এবং জাতীয় চেতনার প্রতীক। এর প্রতি অবহেলা শুধু ইতিহাসকে অবমূল্যায়িত করা নয় বরং নতুন প্রজন্মের মধ্যে ভাষা আন্দোলনের শিক্ষাকে দুর্বল করছে। প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণকে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে যাতে শহীদ মিনারের মর্যাদা সঠিকভাবে সংরক্ষিত থাকে।”

এ বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জনাব আলী সরকারি কলেজ শাখার আহ্বায়ক এমদাদুল হক বাবু বলেন, “শহীদ মিনার আমাদের ভাষা ও আত্মত্যাগের প্রতীক। এখানে আবর্জনার স্তূপ জমে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। দ্রুত রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।”

অন্যদিকে বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চ হবিগঞ্জ জেলা শাখা ও জনাব আলী সরকারি কলেজ শাখার অন্যতম সংগঠক শাহরিয়ার খান নাফিজ বলেন, “ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পরও শহীদ মিনারের এমন অবস্থা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়।” তিনি আরও বলেন শহীদ মিনার কেবল ফুল দেওয়ার স্থান নয়-এটি জাতির ইতিহাস, ত্যাগ ও গৌরবের প্রতীক। তাই সারা বছর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts