চলতি অর্থবছরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের ফলে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) প্রায় এক হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীতে পবিত্র রমজান উপলক্ষে টিসিবির ট্রাকসেল কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ৪ থেকে ৫ বছরের মধ্যে সরকারকে টিসিবির জন্য আর ভর্তুকি দিতে হবে না। ভবিষ্যতে টিসিবির পণ্যের তালিকায় সাবান, চা-সহ আরও বেশ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যুক্ত করা হবে, যা সাধারণ মানুষের উপকারে আসবে।

এবার ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত ২০ দিন (শুক্রবার ও ছুটির দিন বাদে) রোজার এ বিক্রয় কার্যক্রম চালু থাকবে। টিসিবি জানিয়েছে, দৈনিক ট্রাকপ্রতি ৪০০ জন নিম্নআয়ের জনসাধারণের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রির কার্যক্রম নেয়া হয়েছে। ট্রাকসেলের মাধ্যমে প্রায় ৩৫ লাখ উপকারভোগীর কাছে প্রায় ২৩ হাজার টন পণ্য বিক্রি করা হবে।

এ কার্যক্রমের আওতায় সারাদেশে বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল ও খেজুর পাওয়া যাবে। রোজার দুটি বাড়তি পণ্য ছোলা প্রতি কেজি ৬০ টাকা ও খেজুর ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হবে। এছাড়া ভোজ্যতেল প্রতি লিটার ১১৫ টাকা, চিনি ৮০ টাকা ও মসুর ডাল ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হবে।

ভ্রাম্যমাণ ট্রাক থেকে একজন ভোক্তা সর্বোচ্চ দুই লিটার তেল, এক কেজি চিনি, দুই কেজি ডাল, এক কেজি ছোলা ও বরাদ্দ সাপেক্ষে এক-দুই কেজি খেজুর কিনতে পারবেন। ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের এসব পণ্য যে কেউ কিনতে পারবেন।

এর পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ডধারীদের জন্য নিয়মিত বিক্রি কার্যক্রম যথারীতি চলবে। কার্ডধারী পরিবারের কাছে প্রতিমাসে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করা ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডালের পরিমাণ ও মূল্য অপরিবর্তিত থাকবে এবং রমজানে ছোলা ৬০ টাকা ও খেজুর ১৬০ টাকা দামে বিক্রি করা হবে।

প্রতিদিন ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় ৫০টি, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় ২০টি ও ৭টি মেট্রোপলিটন এলাকায় ১৫টি করে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে। অবশিষ্ট ৫৫ জেলায় ৫টি করে সর্বমোট ৪৫০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে এসব পণ্য বিক্রি করবে টিসিবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts