আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভোট গ্রহণ নির্বিঘ্ন করতে আজ সকাল থেকেই রাজধানীসহ সারা দেশের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ভোটকেন্দ্রগুলোতে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্সসহ নির্বাচনি সামগ্রী বিতরণের কাজ শুরু হয়েছে।

নিরাপত্তার চাদরে নির্বাচনি সামগ্রী

এবারের নির্বাচনে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে ব্যালট পেপার পরিবহনের নিরাপত্তায়। পুলিশ, আনসার ও র‍্যাবের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ পাহারায় ট্রাকে করে এসব সরঞ্জাম কেন্দ্রে কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ইসি সূত্র জানিয়েছে, দেশের ৪২ হাজার ৬৫৯টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতেই বিকেলের মধ্যে সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রযুক্তির কড়া নজরদারি

এবারই প্রথম বড় পরিসরে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো হয়েছে:

  • ড্রোন নজরদারি: দুর্গম এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর আশেপাশে ড্রোনের মাধ্যমে আকাশপথে নজরদারি চালানো হচ্ছে।
  • সিসি ক্যামেরা: প্রতিটি কেন্দ্রের প্রবেশপথ এবং গোপন কক্ষ বাদে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যা সরাসরি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

মাঠে ৯ লক্ষাধিক নিরাপত্তা কর্মী

সরঞ্জাম বিতরণের পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রের সুরক্ষায় ইতোমধ্যে অবস্থান নিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য। এর মধ্যে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েন রয়েছে সেনাবাহিনী। রিটার্নিং কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেন্দ্রগুলোতে সরঞ্জাম পৌঁছানোর পর সেখানে নিয়োজিত প্রিজাইডিং অফিসার ও পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক পাহারায় থাকবেন।

ভোটারদের জন্য শেষ বার্তা

আজ সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ভোটারদের আশ্বস্ত করবেন। সিইসি ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন, ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না।

শীতের সকাল থেকেই জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ডিসি অফিস ও নির্বাচন অফিসগুলোর সামনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসাররা বুঝে নিচ্ছেন তাদের দায়িত্বের সরঞ্জাম। সব মিলিয়ে এখন শুধু আগামীকাল সকালের প্রতীক্ষা—যখন দেশের কোটি কোটি ভোটার তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts