গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের পূর্বাঞ্চলে মিলিশিয়া নিয়ন্ত্রিত একটি খনিতে একাধিক ভূমিধসে বহু মানুষ জীবন্ত চাপা পড়ে মারা গেছেন। 

স্থানীয় গভর্নর ও প্রত্যক্ষদর্শীরা শুক্রবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

২০২১ সালে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার পর, এম২৩ সশস্ত্র গোষ্ঠী ডিআর কঙ্গোর সম্পদ সমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিজেদের দখলে নিয়ে নেয়। 

রুয়ান্ডার সহায়তায় তারা ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে উত্তর কিভু প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ রুবায়া খনিটি দখল করে।
ডিআর কঙ্গোর রুবায়া থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ কথা জানিয়েছে। 

স্থানীয় খনি শ্রমিকরা জানান, বুধবার বিকেলে রুবায়া খনি এলাকার একটি পাহাড়ি অংশ ধসে পড়ে। এর পর বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে দ্বিতীয় দফা ভূমিধস ঘটে।

স্বাধীন খনি শ্রমিক ফ্র্যাঙ্ক বলিঙ্গো এএফপিকে বলেন, ‘বৃষ্টি হওয়ার পরই ভূমিধস হয় এবং এতে কাদাপানির স্রোতের তোড় মানুষকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। এই ভূমিধসে কেউ কেউ মাটি চাপা পড়েছেন, আবার অনেকে এখনও মাটি চাপা পড়া গর্তের ভেতরে আটকে আছেন।’

আরেকজন খনি শ্রমিক অলিভিয়ে জিনজাবাকুইরা বলেন, ‘বুধবার আমি যখন খনিজ খোঁজার জন্য একটি গর্তে ছিলাম, তখনই ভূমিধস ঘটে। অল্পের জন্য আমি বেঁচে যাই।’

এম২৩ নিযুক্ত উত্তর কিভু প্রদেশের গভর্নর ইরাসতোন বাহাতি মুসাঙ্গা এএফপিকে জানান, এ ভূমিধসে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

তিনি বলেন, ‘এই ঘটনায় মৃত কয়েকজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।’ 

তবে তিনি মৃতদের সঠিক সংখ্যা জানাননি।

তবে মৃতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এএফপি স্বাধীনভাবে মৃতের সংখ্যা যাচাই করতে পারেনি।

শুক্রবারও ঝুঁকি উপেক্ষা করে ডজনখানেক শ্রমিক খনিতে মাটি খুঁড়ে যাচ্ছিলেন বলে এএফপির ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে। এ সময় ট্যাংক টপ ও রাবারের বুট পরে নারী-পুরুষ শ্রমিকদের গর্তে গর্তে খনিজ বাছাই করতে দেখা যায়।

রুবায়া খনি থেকে বিশ্বের মোট কোলটানের প্রায় ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ উৎপাদিত হয়। 

এই কোলটান ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের মতে, খনিটি দখলের পর এম২৩ সেখানে কঙ্গো সরকারের সমান্তরাল আরেকটি প্রশাসন গড়ে তুলে খনির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, কোলটান উৎপাদন ও বিক্রির ওপর প্রতি কেজিতে সাত ডলার কর আরোপ করে এম২৩ প্রতি মাসে প্রায় ৮ লাখ ডলার আয় করছে।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা আরও অভিযোগ করেছেন, রুয়ান্ডা এই মিলিশিয়াকে ব্যবহার করে ডিআর কঙ্গোর খনিজ সম্পদ লুট করছে। 

তবে দেশটি তাদের বিরুদ্ধে এম২৩-কে সামরিক সহায়তা দেওয়ার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বিশ্বের মোট কোলটানের প্রায় ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ মজুত থাকার পাশাপাশি ডিআর কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও টিনের ভাণ্ডারও রয়েছে।

এম২৩-এর অগ্রযাত্রার কারণে পূর্বাঞ্চলে কার্যক্রম চালানো বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক খনি কোম্পানি সাময়িকভাবে তাদের কাজ বন্ধ রেখেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts