ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে ঋণের নামে ৯০৩ কোটি ৬৭ লাখ ২ হাজার ৬২১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ব্লুম সাকসেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ জালাল খান মজলিশ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গত ৪ জানুয়ারি দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও মানি লন্ডারিং আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়।

সাংবাদিকদের কাছে এই মাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া কিছু নেতিবাচক মন্তব্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে দুদক।ব্যাখ্যা তুলে ধরেন দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন।

দুদকের ব্যাখ্যায় বলা হয়, ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে ঋণ প্রদানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হওয়ার পরও একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি কমিশন সম্পর্কে সামাজিক মাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। বিষয়টি সর্বসাধারণের জ্ঞাতার্থে সংশ্লিষ্ট ডেপুটি গভর্নরের ভূমিকা স্পষ্ট করা প্রয়োজন বলে মনে করে দুদক।

ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়, ন্যাশনাল ব্যাংকের আর্থিক সূচকের ক্রমাবনতি ও সুশাসনের ঘাটতি পরিলক্ষিত হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদকে ব্যাংকটির বোর্ডে পর্যবেক্ষক (অবজারভার) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ন্যাশনাল ব্যাংকের ৪৩৩তম বোর্ড সভায় ছয় জন পরিচালক এবং পর্যবেক্ষক হিসেবে ড. মো. কবির আহাম্মদ উপস্থিত ছিলেন।

দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, সব ধরনের রীতি-নীতি উপেক্ষা করে অস্বাভাবিক গতিতে ঋণ আবেদনের মাত্র চার কার্যদিবসের মধ্যেই বোর্ড সভায় ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়, যেখানে পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকা ডেপুটি গভর্নর তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করে ঋণ অনুমোদনে সহায়তা করেন।

অথচ পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব ছিল বিনিয়োগ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, সিকিউরিটি ও জালিয়াতি প্রতিরোধ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত প্রদান, বোর্ড সদস্যদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলে তা তুলে ধরা, তাৎক্ষণিকভাবে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ প্রদান এবং সভার সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করা। কিন্তু তিনি ঋণের পুরো অর্থ উত্তোলন ও আত্মসাতের প্রায় এক মাস পর বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপারভিশনে প্রতিবেদন দেন।

দুদক জানায়, বিভিন্ন অনিয়ম ও ভুয়া নথিপত্রের মাধ্যমে ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে ব্রডওয়ে রিয়েল এস্টেট লিমিটেড ৪৯০ কোটি টাকা, মরিয়ম কনস্ট্রাকশন লিমিটেড ৩০০ কোটি টাকা এবং প্রকৃতি অ্যাসোসিয়েটস ৮০ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করে আত্মসাৎ করেছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করা হয়েছে।
এসব ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষক হিসেবে ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে, যা তদন্তের সময় বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে বলে জানায় দুদক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts