দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের পর সিরিয়া আবারও একটি বড় ধরনের গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক কিছু রাজনৈতিক ও সামরিক পটপরিবর্তন দেশটিকে একটি চরম বিপর্যয় থেকে সাময়িকভাবে রক্ষা করেছে।
পরিস্থিতি কেন উত্তপ্ত হয়েছিল?
বিদ্রোহীদের নতুন তৎপরতা: সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর হঠাৎ অগ্রসর হওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছিল।
আঞ্চলিক শক্তির প্রভাব: রাশিয়া, তুরস্ক এবং ইরানের মতো দেশগুলোর স্বার্থের সংঘাত সিরিয়াকে আবারও একটি প্রক্সি যুদ্ধের ময়দান বানিয়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি করেছিল।
মানবিক সংকট: বছরের পর বছর চলা যুদ্ধে ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় সাধারণ জনগণের মধ্যে চরম হাহাকার তৈরি হয়েছিল।
যেভাবে রক্ষা পেল সিরিয়া
কূটনৈতিক তৎপরতা: পর্দার আড়ালে বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থা ও কূটনীতিকদের তৎপরতা একটি তাৎক্ষণিক বড় লড়াই থামিয়ে দিতে ভূমিকা রেখেছে। ২. যুদ্ধবিরতির ধারাবাহিকতা: গুরুত্বপূর্ণ ফ্রন্টলাইনগুলোতে বড় ধরনের সংঘর্ষের বদলে কৌশলগত অবস্থান বজায় রাখা এবং নতুন করে পূর্ণমাত্রার হামলা থেকে বিরত থাকা। ৩. শক্তির ভারসাম্য: বিদ্রোহী এবং সরকারি বাহিনীর মধ্যে একটি অলিখিত ‘স্থিতাবস্থা’ (Status Quo) বজায় থাকা, যেখানে কোনো পক্ষই এখনই চূড়ান্ত লড়াইয়ে নামার ঝুঁকি নিতে চাইছে না।
বর্তমান বাস্তবতা
যদিও বড় ধরনের গৃহযুদ্ধ আপাতত এড়ানো গেছে, তবে সিরিয়ায় স্থায়ী শান্তি এখনও অনেক দূরে। অর্থনৈতিক মন্দা, অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা এখনও দেশটির বড় চ্যালেঞ্জ। সিরিয়ার সাধারণ মানুষ এখন ধ্বংসস্তূপ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায়।



