ভেনিজুয়েলার তেল নিয়ে ট্রাম্পের বড় ঘোষণা: প্রথম ৪ দিনেই ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল সরিয়ে নেওয়ার দাবি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, ভেনিজুয়েলায় সামরিক অভিযানের পর দেশটির তেলের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি দাবি করেন, অভিযানের প্রথম ৪ দিনেই প্রায় ৫০ মিলিয়ন (৫ কোটি) ব্যারেল তেল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং এর কিছু অংশ ইতিমধ্যে বিশ্ববাজারে বিক্রিও শুরু হয়েছে।
সংবাদের মূল বিষয়গুলো:
- বিপুল পরিমাণ তেল দখল: ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ভেনিজুয়েলার বিভিন্ন স্টোরেজ ও জাহাজে আটকে থাকা “নিষেধাজ্ঞাভুক্ত” তেল এখন সরাসরি মার্কিন নিয়ন্ত্রণে। তিনি বলেন, “আমরা প্রথম ৪ দিনে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বের করে নিয়েছি। আমাদের কাছে আরও কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল মজুত আছে যা আমরা খোলা বাজারে বিক্রি করছি।”
- অর্থের নিয়ন্ত্রণ: ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ (Truth Social) জানিয়েছেন, এই তেল বিক্রির সমস্ত অর্থ মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তিনি দাবি করেছেন, এই অর্থ আমেরিকা ও ভেনিজুয়েলার জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করা হবে।
- বাজারের ওপর প্রভাব: এই বিপুল পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়ার মূল উদ্দেশ্য তেলের দাম কমিয়ে আনা। ট্রাম্পের মতে, এর ফলে আমেরিকায় জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
- তেল কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ: ট্রাম্প ইতিমধ্যেই মার্কিন তেল জায়ান্ট (Chevron, ExxonMobil) কোম্পানিগুলোর সাথে বৈঠক করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন কোম্পানিগুলো ভেনিজুয়েলার ধ্বংসপ্রায় তেল অবকাঠামো সংস্কারে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে।
প্রেক্ষাপট:
জানুয়ারির শুরুতে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর এক অভিযানে ভেনিজুয়েলার দীর্ঘকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পর দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের যুক্তি হলো, ভেনিজুয়েলা একসময় আমেরিকার সম্পদ “চুরি” করেছিল, এখন তিনি সেই পাওনা “ফিরিয়ে নিচ্ছেন”।
বিশ্লেষকদের মতামত:
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বিশ্ববাজারের জন্য খুব বড় পরিমাণ না হলেও, এটি ভূ-রাজনৈতিকভাবে একটি শক্তিশালী বার্তা। তবে তেলের মালিকানা ও অর্থের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আইনগত বিতর্কের সৃষ্টি হতে পারে।



