নয়াদিল্লি | ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সঙ্গে ভারতীয় কূটনীতিকের বৈঠকের বিষয়টি স্বীকার করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) নয়াদিল্লিতে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান তুলে ধরেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের হাইকমিশনের কর্মকর্তারা সেখানে নিয়মিত বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের সঙ্গে সংলাপে অংশ নেন। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বৈঠককেও সেই বৃহত্তর ও নিয়মিত প্রেক্ষাপটেই দেখা উচিৎ।”
ভারতের এই মন্তব্যের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হলো যে, তারা জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগকে বিশেষ কোনো গোপন আঁতাত হিসেবে না দেখে বরং একটি স্বাভাবিক কূটনৈতিক প্রক্রিয়া হিসেবেই দাবি করছে।
এর আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান নিজেই এই বৈঠকের কথা ফাঁস করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন:
বছরের শুরুর দিকে (তার বাইপাস সার্জারির পর) এক ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে তার বৈঠক হয়, ভারতীয় ওই কর্মকর্তা বৈঠকটি গোপন রাখার অনুরোধ করেছিলেন, অন্যান্য দেশের কূটনীতিকরা যেমন প্রকাশ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন, ভারতের ক্ষেত্রে তেমনটি ঘটেনি।
ডা. শফিকুর রহমান রয়টার্সকে বলেছিলেন, “আমাদের সবার কাছে উন্মুক্ত হতে হবে। সম্পর্কের উন্নতি ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।” তিনি আরও দাবি করেন, ভারত এখন বাংলাদেশের সব প্রধান রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই যোগাযোগের পরিধি বাড়িয়েছে।
প্রায় ১৫ দিন আগে রয়টার্স এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও ভারত এত দিন এ বিষয়ে নিশ্চুপ ছিল। আজ মুখপাত্রের বক্তব্যের মাধ্যমে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টির দায় স্বীকার করে একে ‘স্বাভাবিক কূটনৈতিক সংলাপ’ হিসেবে চিত্রিত করল।



