আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক হামলা শেষ মুহূর্তে বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তুরস্ক, সৌদি আরব, কাতার ও ওমানের সমন্বিত এবং তীব্র কূটনৈতিক চাপের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানা গেছে। দুবাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত কয়েকদিন ধরে ওয়াশিংটনের ওপর মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশগুলো ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। তুরস্ক ও সৌদি আরবের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলো ট্রাম্পকে সরাসরি সতর্ক করে দেয় যে, ইরানের ওপর কোনো ধরণের আক্রমণ পুরো অঞ্চলকে এক অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে।

প্রতিবেদন অনুসারে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ট্রাম্পকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে ইরানের সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গত বছরের কাতারের আল-উদেইদ এয়ারবেসে হওয়া হামলার মতো সীমিত হবে না।

ইরান এবার অনেক বেশি বিধ্বংসী ও কঠোর আঘাত হানার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে, যা মার্কিন ঘাঁটি ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অবকাঠামো তছনছ করে দিতে পারে। কাতার ও ওমান তাদের মধ্যস্থতাকারী অবস্থান থেকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, যুদ্ধ শুরু হলে তার আঁচ মিত্র দেশগুলোর ওপরও পড়বে, যা তারা কোনোভাবেই সমর্থন করবে না।

ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ইরানের প্রতি অত্যন্ত কঠোর মনোভাব পোষণ করে আসছিলেন। তবে মিত্রদের এই সম্মিলিত ‘রেড অ্যালার্ট’ বা সতর্কবার্তা এবং যুদ্ধের ভয়াবহতা উপলব্ধি করে তিনি সামরিক অভিযান থেকে পিছিয়ে এসেছেন। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো না হলেও, পেন্টাগন জানিয়েছে তারা বর্তমানে ‘কূটনৈতিক পথ’ এবং ‘আর্থিক নিষেধাজ্ঞার’ ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ট্রাম্পের একক সিদ্ধান্তের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আপাতত এক বড় ধরণের সংঘাত এড়ানো সম্ভব হলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts