ওয়াশিংটন ডি.সি. | ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬

ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ধারাবাহিকতায় প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে সেই তেল বিক্রি শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে সম্পাদিত এক ঐতিহাসিক চুক্তির আওতায় প্রথম চালানেই প্রায় ৫০০ মিলিয়ন (৫০ কোটি) ডলারের তেল বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে। রয়টার্সসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ভেনেজুয়েলার সাবেক নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটকের ১১ দিন পর এই তেল বাণিজ্যের প্রক্রিয়া শুরু হলো। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেলর রজার্স জানিয়েছেন, এই তেল বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা—উভয় দেশের জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি মার্কিন সরকারের কঠোর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।

তেল বিক্রির মাধ্যমে পাওয়া এই বিপুল পরিমাণ অর্থ একটি বিশেষ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হয়েছে। এই অ্যাকাউন্টের বিষয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে, ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে অবস্থিত, কাতারকে একটি ‘নিরপেক্ষ স্থান’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে যাতে ফান্ডের লেনদেন স্বচ্ছ থাকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের নিরপেক্ষ এলাকায় অ্যাকাউন্টটি রাখায় এর ওপর অন্য কোনো আন্তর্জাতিক পক্ষ বা পাওনাদারদের আইনি হস্তক্ষেপ বা তহবিল বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে যাবে।

জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, আগামী দিনগুলোতে আরও কয়েক দফায় তেল বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ভেনেজুয়েলার প্রায় ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বিক্রির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ২.৫ বিলিয়ন ডলার হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে বড় বড় মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোকে ভেনেজুয়েলার জরাজীর্ণ তেল অবকাঠামো সংস্কারের জন্য বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে। ইতিপূর্বে ভেনেজুয়েলার তেলের প্রধান ক্রেতা ছিল চীন। কিন্তু নতুন এই চুক্তির ফলে তেলের সরবরাহ এখন বড় পরিসরে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঘুরে যাবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলা খুব শীঘ্রই পুনরায় সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে এবং এই অংশীদারিত্ব দুই দেশের জন্যই লাভজনক হবে। তবে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্ব ও সম্পদের ওপর এই পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা আলোচনা-সমালোচনাও চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts