বেইজিং | ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬

কানাডা ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক বরফ গলতে শুরু করেছে। চার দিনের এক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সফরে বেইজিং পৌঁছেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ২০১৭ সালের পর এই প্রথম কোনো কানাডিয়ান সরকারপ্রধান চীন সফর করছেন, যা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গে পৃথকভাবে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হবেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের মাধ্যমে কানাডা তার এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশলে ভারসাম্য আনতে চাইছে।

এই সফরের এজেন্ডায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অমীমাংসিত বিষয় স্থান পেয়েছে, গত কয়েক বছর ধরে গোয়েন্দা নজরদারি এবং রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি অভিযোগে দুই দেশের সম্পর্কে যে ফাটল ধরেছিল, তা মেরামত করা।চীনের বাজারে কানাডার কৃষিপণ্য রপ্তানি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ মিটিয়ে ফেলা, কানাডা কর্তৃক চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক কমানোর বিষয়ে বেইজিংয়ের দাবি নিয়ে আলোচনা, অক্টোবর মাসে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনার সূত্র ধরে জলবায়ু পরিবর্তন ও বিশ্ব অর্থনীতিতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করা।

২০১৭ সালের পর থেকে হুয়াওয়ে ইস্যু এবং পরবর্তীকালে দুই কানাডিয়ান নাগরিককে আটকের ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। তবে গত বছরের অক্টোবর থেকে দুই পক্ষই সম্পর্ক উন্নয়নের আভাস দিয়ে আসছিল। প্রধানমন্ত্রী কার্নির এই সফরকে সেই ইতিবাচক যোগাযোগের চূড়ান্ত রূপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কানাডার কৃষিজীবী এবং প্রযুক্তি খাতের ব্যবসায়ীরা এই সফরের দিকে গভীরভাবে নজর রাখছেন, কারণ চীনের বিশাল বাজারে পুনরায় প্রবেশের সুযোগ তাদের অর্থনীতির জন্য বড় একটি স্বস্তি নিয়ে আসতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts