আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনার মুখে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইউরোপীয় শক্তিগুলো। এই উত্তেজনার মধ্যেই দ্বীপটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মার্কিন প্রভাব ঠেকাতে সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে জার্মানি। জার্মান সংবাদমাধ্যম BILD-এর একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সপ্তাহেই (বৃহস্পতিবার) জার্মানির একটি প্রাথমিক সামরিক দল গ্রিনল্যান্ডে পৌঁছাবে। প্রাথমিকভাবে ১৩ জন দক্ষ সদস্যের একটি রিকনেসান্স (Reconnaissance) বা অনুসন্ধান দল সেখানে পাঠানো হচ্ছে। জার্মানির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, এই মিশনটি ডেনমার্কের অনুরোধে পরিচালিত হচ্ছে।
সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য ‘সব ধরণের বিকল্প’ খোলা আছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, রাশিয়ার হাত থেকে গ্রিনল্যান্ডকে রক্ষা করতে যুক্তরাষ্ট্রের এটি দখল করা জরুরি। ট্রাম্পের এমন আগ্রাসী অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপীয় দেশগুলো জোটবদ্ধ হচ্ছে:
গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। জার্মানি মনে করে, ইউরোপের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেখানে সামরিক উপস্থিতি প্রয়োজন। জার্মানির পাশাপাশি সুইডেন, নরওয়ে এবং ফ্রান্সও গ্রিনল্যান্ডে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনকে বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের সীমান্ত ও স্বার্থ রক্ষায় বদ্ধপরিকর।
জার্মান সরকার জানিয়েছে, প্রাথমিক এই দলটি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। প্রয়োজনে এবং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে পরবর্তীতে আরও নিয়মিত সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো হতে পারে। এই মিশনটি উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নজরদারিতেও কাজ করবে।
ট্রাম্পের এই ‘গ্রিনল্যান্ড ক্রয়ের’ জেদ এখন আটলান্টিকের দুই তীরের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক বড় ফাটল হিসেবে দেখা দিচ্ছে। জার্মানির এই সেনাপ্রেরণকে অনেক বিশ্লেষক যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইউরোপের সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।



