তেহরান | ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬
ইরান সরকার দেশটির আন্তর্জাতিক আকাশসীমা (তেহরান এফআইআর) সাধারণ সব ধরনের ফ্লাইটের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাত থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। তবে ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (CAA) বিশেষ অনুমোদন প্রাপ্ত কিছু নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।
১৪ জানুয়ারি রাত ১০:১৫ (জিএমটি) থেকে আকাশসীমা বন্ধের নির্দেশ জারি করা হয়েছে, শুধুমাত্র বিশেষ পূর্ব-অনুমতি প্রাপ্ত আন্তর্জাতিক সিভিল ফ্লাইটগুলো ওঠানামা করতে পারবে, দেশের অভ্যন্তরীণ তীব্র সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণে এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের এই হঠাৎ সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। অনেক বড় বড় এয়ারলাইনস ইতোমধ্যে তাদের ফ্লাইট বাতিল বা রুট পরিবর্তন করতে শুরু করেছে লুফথানসা ও টার্কিশ এয়ারলাইনস তেহরানগামী তাদের সকল ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
ভারতের ইন্ডিগো (IndiGo) এবং এয়ার ইন্ডিয়া তাদের যাত্রীদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে এবং বিকল্প রুট ব্যবহার করছে। এছাড়া এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ এবং ফ্লাইদুবাই তাদের শিডিউলে পরিবর্তন এনেছে।
আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্রিয়তা এবং মিসাইল উৎক্ষেপণের ঝুঁকির কারণে বেসামরিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে ‘মিসআইডেন্টিফিকেশন’ বা ভুল শনাক্তকরণের আশঙ্কা রয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানে রিয়ালের রেকর্ড পতনের প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা প্রায় বিচ্ছিন্ন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো ইতোমধ্যে তাদের নাগরিকদের ইরান ভ্রমণের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।
ইরানের সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আকাশসীমা পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তবে আপাতত ট্রানজিট ফ্লাইটগুলোকেও ইরানের আকাশসীমা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



