নিজস্ব প্রতিবেদক, সুপ্রিম কোর্ট | ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় থানা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যালয় থেকে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন। নিরাপত্তাহীনতার প্রেক্ষাপটে ভোটার ও প্রার্থীদের প্রাণরক্ষার স্বার্থে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।

রিট আবেদনে বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব বা গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ৫,৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬০৯ রাউন্ড গোলাবারুদ লুট হয়ে যায়।

সরকার এসব অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা করলেও এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো সন্ত্রাসীদের হাতে রয়ে গেছে, যা আসন্ন নির্বাচনের জন্য বড় হুমকি।

রিটে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় যে, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হলে এবারের নির্বাচন রক্তক্ষয়ী হতে পারে। এর স্বপক্ষে সাম্প্রতিক একটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়—ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শহীদ শরীফ ওসমান হাদি সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন। রিটকারীর মতে, এই হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে যে দেশে নির্বাচনের সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি।

এছাড়া, নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহর একটি বক্তব্যও রিটে তুলে ধরা হয়, যেখানে তিনি নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারকে ‘অত্যন্ত জরুরি’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।

রিটে বিবাদী (Respondents) করা হয়েছে: ১. মন্ত্রিপরিষদ সচিব ২. স্বরাষ্ট্র সচিব ৩. আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ৪. নির্বাচন কমিশন সচিব ৫. পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ৬. র‍্যাব মহাপরিচালক

রিটকারী আইনজীবী জানান, লুণ্ঠিত সব অস্ত্র উদ্ধার এবং নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তফসিল স্থগিত রাখাই এই রিটের মূল আর্জি। শীঘ্রই হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে রিটটির শুনানি হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts