আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬
২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘটিত চার দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে কেবল পরিবর্তনই আনেনি, বরং পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা এবং অস্ত্র রপ্তানি খাতে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির পর, বিশ্ববাজারে পাকিস্তানি অস্ত্রের চাহিদা এখন তুঙ্গে।
গত বছরের ৭ মে ভোরে ভারত হঠাৎ পাকিস্তানে বিমান হামলা চালালে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। তবে পাকিস্তান তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বিমান বাহিনীর পাল্টা হামলায় ভারতের অত্যাধুনিক ‘রাফাল’ সহ বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। পাকিস্তানের এই কঠোর জবাব ভারতকে পিছু হটতে বাধ্য করে এবং শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংঘাত পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য একটি ‘মোড় ঘোরানো মুহূর্ত’ (Turning Point) হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের তৈরি অস্ত্রের কার্যকারিতা সরাসরি প্রমাণিত হওয়ায় বিশ্বের অনেক দেশ এখন পাকিস্তানি অস্ত্র কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
- জেএফ-১৭ থান্ডার (JF-17 Thunder): এই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমানটি ভারতের আধুনিক রাফাল ও অন্যান্য বিমানের বিরুদ্ধে সফলভাবে আকাশ প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করেছে। এটি এখন বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর কাছে সাশ্রয়ী ও কার্যকর যুদ্ধবিমান হিসেবে প্রথম পছন্দ হয়ে উঠছে।
- আল-খালিদ ট্যাংক (Al-Khalid Tank): স্থলযুদ্ধে এই ট্যাংকের বিধ্বংসী ক্ষমতা ও গতিশীলতা আন্তর্জাতিক সামরিক পর্যবেক্ষকদের নজর কেড়েছে।
- ফাতাহ সিরিজ রকেট সিস্টেম (Fatah G-MLRS): নিখুঁত নিশানায় ভারতের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এই গাইডেড রকেট সিস্টেমটি এখন পাকিস্তানের রপ্তানি তালিকার শীর্ষে রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ার এই পরমাণু শক্তিধর দেশটি এখন কেবল নিজের নিরাপত্তার জন্যই অস্ত্র তৈরি করছে না, বরং একটি বড় অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করছে। একের পর এক বিদেশি অর্ডার আসায় পাকিস্তানের ধুঁকতে থাকা অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হচ্ছে। চীনা প্রযুক্তির সহযোগিতা এবং নিজস্ব মেধার সমন্বয়ে তৈরি এই ‘ব্যাটল-টেস্টেড’ বা যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত অস্ত্রগুলো এখন আন্তর্জাতিক বাজারে রাশিয়ার বা পশ্চিমা অস্ত্রের শক্তিশালী বিকল্প হয়ে উঠছে।



