আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬
২০২১ সালের শেষভাগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ইরান থেকে প্রায় ৩ বিলিয়ন (৩০০ কোটি) ডলার মূল্যের ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহ করেছে রাশিয়া। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ এক পশ্চিমা নিরাপত্তা কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, রাশিয়ার এই বিপুল ব্যয়ের ফলে দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক এখন এক কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপ নিয়েছে।
ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, ইরান থেকে রাশিয়ার কেনা ক্ষেপণাস্ত্রের তালিকায় রয়েছে ফাতাহ-৩৬০ (Fateh-360) শতাধিক স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। প্রায় ৫০০টি অন্যান্য ধরনের স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। প্রায় ২০০টি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, যা রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র ক্ষেপণাস্ত্র নয়, ২০২১ সাল থেকে ইরানি সামরিক সরঞ্জাম এবং প্রযুক্তির পেছনে রাশিয়ার মোট ব্যয় ৪ বিলিয়ন (৪০০ কোটি) ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এই ব্যয়ের একটি বড় অংশ খরচ হয়েছে নিম্নলিখিত খাতে
শাহেদ-১৩৬ ড্রোন কয়েক হাজার আত্মঘাতী ড্রোন সরবরাহ। প্রযুক্তি হস্তান্তর ইরান রাশিয়াকে ড্রোন তৈরির প্রযুক্তি সরবরাহ করেছে, যার মাধ্যমে রাশিয়া বর্তমানে নিজ দেশেই ‘গেরান-২’ (Geran-2) নামক ড্রোন উৎপাদন করছে। গোলাবারুদ ও শেল কয়েক মিলিয়ন রাউন্ড গোলাবারুদ এবং কামানের গোলা সরবরাহ।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সরবরাহ রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করেছে, বিশেষ করে যখন পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার নিজস্ব উৎপাদন ব্যবস্থা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এর বিনিময়ে ইরানও রাশিয়ার কাছ থেকে উন্নত যুদ্ধবিমান (যেমন Su-35) এবং সাইবার যুদ্ধের প্রযুক্তি পাওয়ার আশা করছে।
যদিও ইরান ও রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশাল অঙ্কের লেনদেনের কথা স্বীকার করেনি, তবে ব্লুমবার্গের এই প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধে এই ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।



