ওয়াশিংটন ডি.সি. | ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬
বৈশ্বিক উচ্চ-প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য অপরিহার্য বিরল খনিজ বা ‘ক্রিটিক্যাল মিনারেলস’ সরবরাহে চীনের ওপর অতি-নির্ভরতা কমাতে ওয়াশিংটনে এক ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন জি-৭ জোটের অর্থমন্ত্রীরা। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট-এর আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জি-৭ সদস্য দেশগুলো ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া এবং মেক্সিকোর প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
চীনের সাম্প্রতিক কঠোর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নীতির প্রেক্ষাপটে এই জোট মূলত তিনটি প্রধান কৌশলের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে
বৈঠকের অন্যতম বৈপ্লবিক প্রস্তাব ছিল খনিজ পণ্যের জন্য একটি ‘সমন্বিত সর্বনিম্ন মূল্য’ (Coordinated Price Floor) নির্ধারণ করা। চীনের ভর্তুকিপ্রাপ্ত এবং সস্তা পণ্যের সাথে প্রতিযোগিতায় যাতে পশ্চিমের নতুন খনি প্রকল্পগুলো লোকসানে না পড়ে, সেজন্য এই আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
চীন বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ বিরল খনিজ প্রক্রিয়াকরণ নিয়ন্ত্রণ করে। এই নির্ভরতা কমাতে জোটভুক্ত দেশগুলো নিজেদের মধ্যে এবং বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোতে নতুন খনি ও রিফাইনারি স্থাপনের জন্য সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার খনিজ প্রকল্পে অর্থায়ন বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
জোটের দেশগুলো খনিজ সম্পদের একটি ‘কমন স্ট্যান্ডার্ড’ তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে শ্রম অধিকার এবং পরিবেশগত সুরক্ষার মান বজায় থাকবে। এর পাশাপাশি কর সুবিধা (Tax Incentives), আর্থিক প্রণোদনা এবং প্রয়োজনে ট্যারিফ বা শুল্ক আরোপের মাধ্যমে চীনের বাজার আধিপত্য মোকাবিলার কথা বলা হয়েছে।
জাপানের অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাতায়ামা বৈঠকে জানান, চীন সম্প্রতি জাপানে অসামরিক কাজে ব্যবহৃত বিরল খনিজ রপ্তানিতেও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর ফলে জি-৭ জোটের মধ্যে এই সংকট সমাধানে বাড়তি তাগিদ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে জি-৭ ভুক্ত দেশগুলো (জাপান বাদে) তাদের চাহিদার প্রায় পুরোটাই চীনের ওপর নির্ভরশীল।
বিশ্লেষকদের মতে এই বৈঠকটি কেবল আলোচনা নয়, বরং চীন থেকে ‘ডি-কপলিং’ (পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়া) নয়, বরং ‘ডি-রিস্কিং’ (ঝুঁকি কমানো)-এর পথে এক বড় পদক্ষেপ। যদি ‘প্রাইস ফ্লোর’ কার্যকর করা সম্ভব হয়, তবে তা বৈশ্বিক মুক্ত বাজার অর্থনীতির ইতিহাসে একটি নতুন এবং সাহসী নজির হয়ে থাকবে।



