বেইজিং: আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের মধ্যেই নিজেদের মুদ্রা ‘ইউয়ান’-এর মান বাড়াতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (PBOC)। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি, ২০২৬) ব্যাংকটি ইউয়ানের দৈনিক রেফারেন্স রেট বা ‘ফিক্সিং’ গত ১৬ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে নির্ধারণ করেছে।
মঙ্গলবার পিপলস ব্যাংক অব চায়না প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইউয়ানের বিনিময় হার ৭.০১-এ (৭.০১০৩) নির্ধারণ করেছে, যা ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের পর থেকে সর্বোচ্চ।
বাজার পরিস্থিতি
- টানা তিন দিনের বৃদ্ধি: গত তিন দিন ধরে ধারাবাহিকভাবে ইউয়ানের মান বাড়িয়ে নির্ধারণ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
- অফশোর মার্কেটে প্রভাব: চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে (অফশোর) ইউয়ান আরও শক্তিশালী হয়ে বর্তমানে প্রতি ডলারে প্রায় ৬.৯৭ লেভেলে লেনদেন হচ্ছে।
- ডলারের চ্যালেঞ্জ: ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের ফলে বৈশ্বিক বাজারে ডলার শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও ইউয়ান তার দৃঢ় অবস্থান বজায় রেখেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিংয়ের বেশ কিছু কৌশলগত লক্ষ্যের কারণে এই শক্তিশালী বিনিময় হারকে সমর্থন দেওয়া হচ্ছে:
১. ইউয়ানের আন্তর্জাতিকীকরণ: চীন চাইছে বৈশ্বিক বাণিজ্যে তাদের মুদ্রার গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে। একটি স্থিতিশীল ও শক্তিশালী মুদ্রা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করে। ২. অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি: মুদ্রার মান বেশি থাকলে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি সাশ্রয়ী হয়, যা চীনের সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সাহায্য করবে। ৩. শিল্প সংস্কার: মুদ্রার উচ্চ মান রপ্তানি পণ্যের দাম কিছুটা বাড়িয়ে দেয়, যা দেশীয় কোম্পানিগুলোকে সস্তা পণ্যের পরিবর্তে গুণগত মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনে উৎসাহিত করে।
ডয়েচে ব্যাংকের (Deutsche Bank) বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৬ সালে ইউয়ানের এই ইতিবাচক ধারা আরও শক্তিশালী হবে। তবে চীন সরকার খুব দ্রুত মান বাড়তে দিয়ে রপ্তানি বাজারে বড় কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক অত্যন্ত সতর্কভাবে এবং ধাপে ধাপে এই পরিবর্তন আনছে।
ভবিষ্যতে ইউয়ান কি ৬.৯০-এর ঘরে পৌঁছাবে কি না, এখন বিশ্ববাজারের নজর সেদিকেই।



