এম এ কাহার সিদ্দিক, কুড়িগ্রাম | ১২ জানুয়ারি, ২০২৬
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নে এক গৃহবধূকে নৃশংসভাবে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। রোববার দিবাগত গভীর রাতে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও সোমবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হয়। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামীর কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পুরো বিষয়টি নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভিতরবন্দ ইউনিয়নের একটি গ্রামে সোমবার সকালে নিজ ঘরের ভেতরে ওই নারীর গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান প্রতিবেশীরা। পরে খবর দিলে নাগেশ্বরী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের গলায় ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে। নিহত নারী তিন সন্তানের জননী ছিলেন।
নিহত গৃহবধূ ও তার স্বামী পেশায় মাছ ব্যবসায়ী ছিলেন। স্থানীয়দের মতে, তাদের মধ্যে কোনো পারিবারিক বিরোধ ছিল না এবং তারা বেশ ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতেন। ঘটনার পর থেকে স্বামীর নিখোঁজ থাকা নিয়ে এলাকায় দুটি মত তৈরি হয়েছে কেউ কেউ মনে করছেন স্বামীর অনুপস্থিতি তার জড়িত থাকার দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে।প্রতিবেশী ও স্বজনদের একটি অংশ ধারণা করছেন, কোনো তৃতীয় পক্ষ এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং স্বামীকে তারা অপহরণ করে নিয়ে গেছে অথবা তাকেও কোনো ক্ষতি করা হয়ে থাকতে পারে।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। নিহতের স্বামীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তাকে পাওয়া গেলে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।”
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর ভিতরবন্দ এলাকায় শোক ও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসী দ্রুত এই ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।



