ঢাকা | ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। দেশে প্রথমবারের মতো সামরিক ড্রোন উৎপাদন কারখানা স্থাপনের লক্ষ্যে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সিইটিসি (CETC) ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে সরকার-টু-সরকার (G2G) চুক্তিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ৬০৮ কোটি ৮ লাখ টাকার এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশে ড্রোন তৈরির আধুনিক প্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞান হস্তান্তরিত হবে।
প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০৮ কোটি ৮ লাখ টাকা। প্রযুক্তি আমদানি ও প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য ৫৭০ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয় হবে, যা আগামী চার অর্থবছরে কিস্তিতে পরিশোধ করা হবে। চলতি অর্থবছরে ১০৬ কোটি টাকা, ২০২৬-২৮ পর্যন্ত প্রতি বছর ১৫৫ কোটি এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ১৫৪.৬০ কোটি টাকা পরিশোধের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাকি ৩৭.৪৭ কোটি টাকা এলসি চার্জ, ভ্যাট ও অন্যান্য ফিতে দেশীয় মুদ্রায় পরিশোধ করা হবে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গত ৬ জানুয়ারি এই প্রকল্প প্রস্তাবের অনুমোদন দেন। এরপর অর্থ মন্ত্রণালয় পাঁচটি কঠোর শর্তে এর চূড়ান্ত প্রশাসনিক সায় দেয়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী নিজস্বভাবে ড্রোন উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণের সক্ষমতা অর্জন করবে, যা দীর্ঘমেয়াদে বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমাবে।
চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সিইটিসি ইন্টারন্যাশনাল শুরুতে ৬৪৩.৬১ কোটি টাকার প্রস্তাব দিলেও বিমান বাহিনীর দক্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার পর চুক্তিমূল্য ৩৫.৫৩ কোটি টাকা হ্রাস করে ৬০৮ কোটি টাকায় পুনঃনির্ধারণ করা হয়। সিইটিসি বিশ্বের ১১০টিরও বেশি দেশে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জাম সরবরাহ করে থাকে।
প্রকল্পটির জন্য বিমান বাহিনীকে আলাদা কোনো বাজেট বরাদ্দের প্রয়োজন হবে না। বিমান বাহিনীর বার্ষিক বাজেটে ‘অন্যান্য যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি’ খাতের জন্য নির্ধারিত অর্থ থেকেই এই প্রকল্পের ব্যয় সংকুলান করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই কেনাকাটার জন্য চলতি অর্থবছরে কোনো অতিরিক্ত অর্থ চাওয়া যাবে না।
এ বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন যে, ড্রোন কারখানা বা যুদ্ধবিমান আমদানির প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে সবকিছু চূড়ান্ত হওয়ার আগে তিনি বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করবেন না। অন্যদিকে, আইএসপিআর জানিয়েছে যে, বিমান বাহিনী থেকে আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়ার পর তারা বিস্তারিত জানাবে।



