লন্ডন/আবুধাবি | ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মুসলিম ব্রাদারহুডসহ বিভিন্ন ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের জেরে আমিরাতি শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি বৃত্তি কাটছাঁট করার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE)। দেশটির সরকার মনে করছে, ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিবেশ আমিরাতি শিক্ষার্থীদের “চরমপন্থার ঝুঁকিতে” ফেলতে পারে।
আমিরাত সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে, ব্রিটিশ ক্যাম্পাসগুলোতে মুসলিম ব্রাদারহুড-ঘনিষ্ঠ সংগঠনগুলো অত্যন্ত সক্রিয় এবং তারা নিয়মিত বিভিন্ন প্রচারণা চালায়। আমিরাতি কর্তৃপক্ষের মতে, এই প্রচারণাগুলো মূলত চরমপন্থী চিন্তাভাবনা যা শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করতে পারে।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে ব্রিটিশ ক্যাম্পাসগুলো আমিরাতি শিক্ষার্থীদের উগ্রবাদের ফাঁদে পড়ার ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। আমাদের শিক্ষার্থীদের এই ধরনের আদর্শিক ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতেই যুক্তরাজ্যে পড়তে যাওয়ার হার কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
এটিই প্রথম কোনো আরব দেশ যারা সরাসরি ইউরোপের একটি রাষ্ট্রকে “ইসলামপন্থী উগ্রবাদ বিস্তারের হটস্পট” হিসেবে চিহ্নিত করে নিজেদের শিক্ষার্থীদের সেখানে পাঠাতে নিরুৎসাহিত করছে। এর আগে অনেক দেশ নিরাপত্তা ইস্যুতে পর্যটন বা ভ্রমণে সতর্কতা জারি করলেও, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এমন নীতিগত পরিবর্তন বিরল।
আমিরাত সরকারের এই নতুন নীতি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই ব্রিটেনে সরকারি বৃত্তিতে যাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও কমিয়ে আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন আমিরাতি কর্মকর্তারা। যুক্তরাজ্যের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, যারা মধ্যপ্রাচ্যের শিক্ষার্থীদের ওপর অনেকটা নির্ভরশীল, তারা বড় ধরনের আর্থিক ও শিক্ষার্থী সংকটে পড়তে পারে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে লন্ডন এবং আবুধাবির মধ্যকার দীর্ঘদিনের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতায় ফাটল ধরার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা শিক্ষা বিভাগ থেকে এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো কড়া প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে বিষয়টি নিয়ে পর্দার আড়ালে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়বে।



