পঞ্চগড় | ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ পঞ্চগড়ে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার দ্রুত বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সেনাবাহিনীর লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটেছে। এতে সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আজ রোববার বিকেলে পঞ্চগড় শহরের শেরে বাংলা পার্ক সংলগ্ন জাতীয় মহাসড়ক এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, দুপুর থেকেই ঢাকা-তেঁতুলিয়া মহাসড়ক অবরোধ করে শহীদ হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করছিলেন শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধ থাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। জনভোগান্তি নিরসনে সেনাবাহিনী ও পুলিশ বারবার শিক্ষার্থীদের সড়ক ছেড়ে দিতে অনুরোধ করে।

শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের কর্মসূচি প্রায় শেষের দিকে ছিল এবং তারা কর্মসূচি সমাপ্তি ঘোষণা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে সেনাসদস্যরা তাদের ওপর অতর্কিত লাঠিচার্জ শুরু করেন। এতে পরিস্থিতি মুহূর্তেই উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। আক্রমণে সাধারণ পথচারী ও সাংবাদিকরাও আক্রান্ত হন। আহতদের উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আন্দোলনের নেতা ফজলে রাব্বী ও মোকাদ্দেসুর রহমান সান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করতে যাচ্ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ আমাদের ওপর চড়াও হওয়া হলো। একজন দেশপ্রেমিক বাহিনীর কাছ থেকে এমন আচরণ আমরা কখনো আশা করিনি। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ী সদস্যদের বিচার চাই।”

পরিস্থিতি সামাল দিতে পঞ্চগড় সেনাক্যাম্পের কমান্ডার মেজর আদনান মোর্শেদ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবির সঙ্গে আমরাও একাত্ম।” দীর্ঘ যানজট নিরসনে একজন লেফটেন্যান্ট একাধিকবার অনুরোধ করার পরও রাস্তা পরিষ্কার না হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য তিনি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও সেনাসদস্যদের ওপর আঘাত এসেছে, যা কাম্য নয়। তিনি উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মিউচুয়ালি (পারস্পরিকভাবে) সমাধান করার আশ্বাস দেন।

মেজর আদনান মোর্শেদের হস্তক্ষেপে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এখনও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা হাদি হত্যার বিচারের পাশাপাশি আজকের লাঠিচার্জের বিচারও দাবি করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts