ঢাকা | ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিক্ষোভ করে সাজাপ্রাপ্ত হওয়া অবশিষ্ট ২৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে ক্ষমা করেছেন দেশটির রাষ্ট্রপতি শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) ঢাকায় অবস্থিত সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ঐতিহাসিক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এই ক্ষমার মাধ্যমে ছাত্র আন্দোলনের জেরে আমিরাতে বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত সকল বাংলাদেশি বন্দি এখন মুক্ত হলেন।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং মানবিক দিক বিবেচনা করে ইউএই প্রেসিডেন্ট এই ক্ষমার সিদ্ধান্ত নেন।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালীন আমিরাতের আইন লঙ্ঘন করে প্রবাসীরা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। ফলে দেশটির নিরাপত্তা আইনে তাদের গ্রেফতার করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

ক্ষমাপ্রাপ্ত এই ২৫ জন বাংলাদেশিকে ইতিমধ্যে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

ইউএই দূতাবাস তাদের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে যে, এই উদ্যোগটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃত্বের করুণা, সহনশীলতা ও ন্যায়বিচারের অঙ্গীকার বহন করে। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার গভীর ভ্রাতৃসুলভ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের এক অনন্য নিদর্শন।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস আমিরাত সরকারের সঙ্গে এই বন্দিদের মুক্তির বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু করেন। এর আগেও কয়েক দফায় কয়েকশ বন্দিকে ক্ষমা করেছিলেন ইউএই প্রেসিডেন্ট। আজকের এই ঘোষণার মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়ার সফল সমাপ্তি ঘটল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts