খন্দকার নিরব, ভোলা প্রতিনিধি | ১১ জানুয়ারি, ২০২৬

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার মেঘনা নদী সংলগ্ন বাসনভাঙ্গা চরে ফসলি জমি দখলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কৃষকদের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে চালানো এই হামলায় নারী-পুরুষসহ অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্র ও আহতদের ভাষ্যমতে, বাসনভাঙ্গা চরে বসবাসরত কৃষকরা দীর্ঘ দিন ধরে তাদের জমিতে আলু, মরিচ, রসুনসহ বিভিন্ন রবিশস্য চাষ করে আসছেন। আজ শনিবার (১১ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চাঁচড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. সবুজ তালুকদারের নেতৃত্বে ৬০-৭০ জনের একটি সশস্ত্র দল চরে হানা দেয়। তারা ফসলি জমিতে লাল পতাকা টাঙিয়ে জমি দখলের চেষ্টা চালায়। কৃষকরা তাদের জমিতে অনধিকার প্রবেশে বাধা দিলে সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

হামলার খবর পেয়ে কোস্টগার্ড ও তজুমদ্দিন থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা আহতদের উদ্ধার করে তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। আহতদের মধ্যে রয়েছেন—সবুজ মাঝি (৬৫), নিরব (৪৫), মো. রাসেল (১৫), শারমিন (৩০), সিরাজ (৪৫), মামুন (৪০), ফয়সাল (২৭), নরনবী (৪৫) ও জান্নাত (২৮)। এদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত নিরব অভিযোগ করেন, “চাঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম হাওলাদারের নির্দেশে সবুজ তালুকদারের নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়েছে। আমরা আমাদের বাপ-দাদার জমিতে চাষাবাদ করছিলাম, তারা জোর করে দখল করতে এসে আমাদের মেরেছে। আমরা এর বিচার চাই।”

অভিযুক্ত সবুজ তালুকদারের মোবাইল বন্ধ পাওয়া গেছে এবং বিএনপি নেতা ইব্রাহিম হাওলাদার ফোন রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শরীফ হাওলাদার জানিয়েছেন, সংগঠন কোনো অপরাধীকে প্রশ্রয় দেয় না। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে সবুজ তালুকদারের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তজুমদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সালাম জানান, পুলিশ ও কোস্টগার্ড আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts