এম এ কাহার সিদ্দিক, কুড়িগ্রাম | ১১ জানুয়ারি, ২০২৬
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা এলাকায় জেলা প্রশাসনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করেই চলছে অবৈধভাবে মাটি কাটার কর্মযজ্ঞ। ফসলি জমি রক্ষায় জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে বারবার নোটিশ জারি করা হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না, বরং দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাটিখেকো চক্র।
সরেজমিনে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, একটি নির্দিষ্ট জমি থেকে মাটি কাটার কথা থাকলেও ভেকু মেশিন ব্যবহার করে খাড়াভাবে গভীর গর্ত করা হচ্ছে। এর ফলে পাশের আবাদি জমিগুলো ভেঙে পড়ছে। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, আশপাশের কৃষকদের চাষ করা জমির ওপর দিয়েই জোরপূর্বক ট্রাক্টর ও ড্রাম ট্রাক চালিয়ে মাটি পরিবহন করা হচ্ছে। এতে মাটির নিচে চাপা পড়ে নষ্ট হচ্ছে উঠতি ফসল, আর ট্রাক্টরের ভারে জমির উর্বরতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী জমির মালিক অভিযোগ করেন, মাটি ব্যবসায়ীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের অনুমতি ছাড়াই জোর করে জমির বুক চিরে ট্রাক্টর চালানো হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে উল্টো হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে সাধারণ কৃষকদের। শুধু দিনেই নয়, রাতের আঁধারেও লাইট জ্বালিয়ে চলে এই অবৈধ খনন কাজ, যা পুরো এলাকায় এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে এই অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং অনেক জমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মাঠ পর্যায়ে কোনো মনিটরিং বা অভিযান না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
এলাকার সচেতন মহল ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা অবিলম্বে এই অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং এই চক্রের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।



