তেহরান | ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ দীর্ঘ প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা দেশব্যাপী উত্তাল বিক্ষোভের গতি স্তিমিত হয়ে আসছে বলে দাবি করেছে ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-র এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, গত কয়েক দিনের তুলনায় আজ দেশের প্রধান শহরগুলোতে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে তেহরানসহ অন্যান্য বড় শহরগুলোর বাজার ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে জনজীবন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
মূল হোতাদের গ্রেপ্তারের ফলে দাঙ্গা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড কমে এসেছে বলে মনে করছে প্রশাসন। সরকার অর্থনৈতিক সংস্কারের যে আশ্বাস দিয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষ আশ্বস্ত হয়ে রাজপথ ছেড়ে ঘরে ফিরছে বলে মন্ত্রণালয়ের দাবি।
তবে আল জাজিরার সাংবাদিকরা তেহরান থেকে জানিয়েছেন যে, যদিও কিছু এলাকায় জমায়েত কম দেখা যাচ্ছে, তবুও জনমনে অসন্তোষ এখনও বিরাজমান। অনেক জায়গায় ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট থাকার কারণে প্রকৃত তথ্য পেতে বেগ পেতে হচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা দাবি করছেন, কঠোর দমন-পীড়ন এবং গ্রেপ্তারের ভয়ে কৌশলী হয়ে তারা হয়তো বড় জমায়েত এড়িয়ে চলছেন, কিন্তু আন্দোলন পুরোপুরি থেমে যায়নি।
ডিসেম্বরের শেষ থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ গত কয়েক দিনে ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল। বিশেষ করে তেহরানের গ্র্যান্ড বাজার এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় শহরগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। আল জাজিরার তথ্যমতে, এ পর্যন্ত সহিংসতায় অন্তত ৪৫ জন নিহত হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার যে দাবি করছে, তা মূলত জনমনে আস্থা ফেরানো এবং বৈশ্বিক চাপ কমানোর একটি কৌশল হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক হুমকির মুখে অভ্যন্তরীণ শান্তি বজায় রাখা এখন তেহরানের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।



