লন্ডন/ব্রাসেলস | ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড ‘দখল’ করার প্রকাশ্য হুমকির মুখে এক নজিরবিহীন প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাজ্য ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা। আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকানোর দোহাই দিয়ে গ্রিনল্যান্ডে একটি বহুজাতিক ন্যাটো (NATO) বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে ইউরোপীয় দেশগুলো, যার নেপথ্য উদ্দেশ্য হলো ট্রাম্পের আগ্রাসী পরিকল্পনাকে নস্যাৎ করা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাজ্য বর্তমানে জার্মানি ও ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় মিত্রদের সাথে একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চালাচ্ছে। এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো—গ্রিনল্যান্ডে দ্রুত ব্রিটিশ সৈন্য, যুদ্ধজাহাজ এবং যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে একে রাশিয়ার ‘আগ্রাসন’ মোকাবিলার প্রস্তুতি বলা হচ্ছে, কিন্তু পর্দার আড়ালে এটি মূলত ট্রাম্পের ‘গ্রিনল্যান্ড দখল’ রুখে দেওয়ার একটি রাজনৈতিক চাল।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার গ্রিনল্যান্ড রক্ষায় রাশিয়া ও চীনকে প্রধান হুমকি হিসেবে তুলে ধরেছেন। তার মতে:
- উত্তর মেরু বা আর্কটিক অঞ্চলে মস্কোর উপস্থিতি এখন ‘আগ্রাসী’ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
- চীনও এই অঞ্চলের খনিজ সম্পদের ওপর নজর দিচ্ছে।
- স্টারমার মনে করেন, গ্রিনল্যান্ড যদি ন্যাটো বাহিনীর সুরক্ষায় থাকে, তবে ট্রাম্পের পক্ষে সেখানে এককভাবে আধিপত্য বিস্তার করা কঠিন হবে।
সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেছিলেন, “আমরা গ্রিনল্যান্ড রক্ষা করব। যদি সহজ পথে ডেনমার্ক আমাদের তা না দেয়, তবে আমরা কঠিন (Hard way) পথে তা গ্রহণ করব।” তিনি আরও দাবি করেন যে, গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা ছাড়া রাশিয়ার প্রতিবেশী হিসেবে টিকে থাকা অসম্ভব। ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থানের কারণেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) ও ন্যাটো এখন মরিয়া হয়ে গ্রিনল্যান্ডে নিজেদের স্থায়ী সামরিক উপস্থিতির পরিকল্পনা করছে।
ইউরোপীয় দেশগুলোর আশা, আর্কটিকে যদি ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেরাই সামরিক ব্যয় বাড়িয়ে সেনা মোতায়েন করে, তবে ট্রাম্পকে শান্ত করা সম্ভব হবে। তারা ট্রাম্পকে এই যুক্তি দেবেন যে—যুক্তরাষ্ট্রের আর আলাদা করে গ্রিনল্যান্ড দখলের দরকার নেই, কারণ ইউরোপীয় দেশগুলোই সেখানে রাশিয়ার বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিচ্ছে। এতে ট্রাম্প তার ভোটারদের বলতে পারবেন যে, তিনি ইউরোপকে দিয়ে বেশি খরচ করিয়ে মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করেছেন।
টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যদি ট্রাম্প ইউরোপের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক হস্তক্ষেপের চেষ্টা করেন, তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন মার্কিন টেক জায়ান্ট (Meta, Google, X, Microsoft) এবং আমেরিকান ব্যাংকগুলোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।



