আঙ্কারা | ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে জ্বালানি যোগাতে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে ইসরায়েলের কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ (Mossad) সরাসরি মদদ দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।
তুরস্কের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দাবি করেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা কেবল স্বতঃস্ফূর্ত কোনো আন্দোলন নয়, বরং এর পেছনে বিদেশি শক্তির সুপরিকল্পিত হাত রয়েছে। তিনি বলেন ইসরায়েলি গোয়েন্দারা বিক্ষোভকারীদের একাংশকে অর্থ, যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং কৌশলগত নির্দেশনা প্রদান করছে।
ফিদানের মতে, ইরানকে দুর্বল করার মাধ্যমে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রভাব বিস্তার এবং নজর অন্যদিকে সরিয়ে নিতে চায় ইসরায়েল। প্রতিবেশী দেশে অস্থিরতা বজায় থাকলে তা তুরস্কসহ পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
হাকান ফিদান দীর্ঘ সময় তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থা MIT-এর প্রধান ছিলেন। এই অঞ্চলে গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক এবং ভূ-রাজনীতি সম্পর্কে তার গভীর জ্ঞান রয়েছে। তার এই অভিযোগ কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বলে মনে করা হচ্ছে।
তেহরান শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে, বিদেশি ‘শত্রু’ রাষ্ট্রগুলো এই বিক্ষোভের পেছনে কাজ করছে। হাকান ফিদানের এই বক্তব্য ইরানের সেই দাবিকেই আরও পোক্ত করল। তবে বরাবরের মতো ইসরায়েল এই ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে তারা প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে আসছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তুরস্ক এই মুহূর্তে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের চেষ্টা করছে। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার উত্তেজনা যদি সরাসরি যুদ্ধে রূপ নেয়, তবে তার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে তুরস্কের ওপর। হাকান ফিদানের এই মন্তব্যের মাধ্যমে তুরস্ক বিশ্বকে এটিই বোঝাতে চাইছে যে, বিক্ষোভের আড়ালে একটি বড় ধরণের ‘গোয়েন্দা যুদ্ধ’ চলছে।



