ঢাকা: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর কয়েকজন শীর্ষ নেতা এবং সংসদ সদস্য প্রার্থীর অনুকূলে অস্ত্রধারী দেহরক্ষী (গানম্যান) নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে। মূলত নীতিমালার আলোকে এবং পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) নিরাপত্তা ঝুঁকি পর্যালোচনার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যারা গানম্যান পেলেন:

  • সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর। তাকে সরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে গানম্যান দেওয়া হয়েছে।
  • জোনায়েদ সাকি: গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী। তার জীবনের নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় তাকেও একজন অস্ত্রধারী দেহরক্ষী দেওয়া হয়েছে।
  • মাসুদ অরুণ: মেহেরপুর-১ আসন থেকে বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী। সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে ঝুঁকি পর্যালোচনার পর তাকে এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

যাদের আবেদন নাকচ হয়েছে:

  • আনোয়ার হোসেন মঞ্জু (জেপি) ও কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (এলডিপি): এই দুই প্রবীণ নেতার গানম্যানের আবেদন নাকচ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, যেহেতু তারা এবারের নির্বাচনে সরাসরি অংশ নিচ্ছেন না এবং গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তাদের ওপর কোনো সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা হুমকির কথা উল্লেখ নেই, তাই তাদের গানম্যান দেওয়া হয়নি।
  • মুহাম্মদ শাখাওয়াত হোসাইন (হিরু): স্বতন্ত্র এই প্রার্থীর আবেদনটিও নিরাপত্তা ঝুঁকি না থাকায় নাকচ করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ১৪ ডিসেম্বর ‘রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের অনুকূলে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ও রিটেইনার নিয়োগ নীতিমালা-২০২৫’ জারি করে। এই নীতিমালার অধীনেই আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সরকার স্পষ্ট করেছে যে, ঢালাওভাবে গানম্যান নিয়োগ দেওয়া হবে না; কেবল যাদের প্রকৃত ঝুঁকি রয়েছে এবং যারা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

নির্বাচন কমিশন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রয়োজনে আরও কিছু প্রার্থীর জন্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts