কিয়েভ: ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভ এবং রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার নতুন উদ্ভাবিত মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল ‘ওরেশনিক’ দিয়ে হামলার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই হামলার পর রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়ানোর জন্য মিত্রদেশগুলোর প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে ইউক্রেন।

  • হামলার বিবরণ: শুক্রবার ভোরে রাশিয়া কিয়েভ এবং লভিভ লক্ষ্য করে ওরেশনিক মিসাইলসহ কয়েকশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। ইউক্রেনের দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় কিয়েভে অন্তত ৪ জন নিহত এবং ২২ জন আহত হয়েছেন। লভিভের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করেও ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোড়া হয়েছে।
  • ওরেশনিক মিসাইলের শক্তি: ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, এই মিসাইলটি ঘণ্টায় ১৩,০০০ কিলোমিটার (শব্দের চেয়ে ১০ গুণ বেশি) বেগে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। পুতিনের দাবি অনুযায়ী, এটি যেকোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে পারে এবং এর ধ্বংসক্ষমতা পারমাণবিক অস্ত্রের সমতুল্য।
  • নিরাপত্তা ঝুঁকি: ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) এবং ন্যাটোর (NATO) সীমান্তের খুব কাছে এই ধরণের শক্তিশালী অস্ত্রের ব্যবহারকে ইউরোপের সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য ‘গুরুতর হুমকি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা।
  • রাশিয়ার পাল্টা দাবি: রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত মাসে পুতিনের বাসভবনে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। যদিও ইউক্রেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয়েই পুতিনের বাসভবনে হামলার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
  • যুদ্ধ থামানোর আলোচনা ও হুমকি: এই হামলা এমন এক সময়ে হলো যখন ইউরোপীয় দেশগুলো যুদ্ধবিরতির পর ইউক্রেনে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে। তবে রাশিয়া এই পরিকল্পনা নাকচ করে দিয়েছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইউক্রেনে মোতায়েন করা যেকোনো বিদেশি সেনা রাশিয়ার ‘বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে গণ্য হবে।

ইউক্রেন মনে করছে, রাশিয়ার এই বেপরোয়া কর্মকাণ্ড রুখতে আটলান্টিক পাড়ের দেশগুলোর (transatlantic community) পক্ষ থেকে আরও কঠোর ও শক্তিশালী জবাব আসা প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts