ঋণখেলাপি তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার পক্ষে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। আজ বৃহস্পতিবার চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এই স্থগিতাদেশ জারি করেন। এর ফলে কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নির্বাচনে অংশগ্রহণ গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর একটি প্রতিষ্ঠান প্রিমিয়ার ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিল, যার সুদে-মূলে বর্তমান বকেয়া দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৯ কোটি টাকা। এই বকেয়া ঋণের কারণে তাকে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তবে হাইকোর্ট থেকে তিনি সিআইবি (Credit Information Bureau) তালিকায় নাম না রাখার বিষয়ে একটি নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন, যার ওপর ভিত্তি করে তার মনোনয়ন বৈধ হওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছিল। প্রিমিয়ার ব্যাংকের আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ চেম্বার আদালত হাইকোর্টের সেই আদেশটি স্থগিত করে দেন।

আদালতে ব্যাংকের পক্ষে শুনানি করা আইনজীবী ব্যারিস্টার বিভূতি তরফদার জানান, এই স্থগিতাদেশের ফলে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে এখন আইনত ঋণখেলাপি হিসেবে গণ্য করা হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO) অনুযায়ী, কোনো ঋণখেলাপি ব্যক্তি সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন না।

এই আসনে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে আছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। হাসনাত আব্দুল্লাহকে ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি সমমনা দল সমর্থন দিয়েছে। মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা নিয়ে এই আইনি জটিলতার ফলে হাসনাত আব্দুল্লাহর জন্য নির্বাচনী সমীকরণ অনেক সহজ হয়ে গেল বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তবে মঞ্জুরুল আহসানের আইনজীবী মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ মামুন জানিয়েছেন, চেম্বার আদালত সরাসরি তার নির্বাচনে অংশ নেওয়া বন্ধের কোনো আদেশ দেননি, কেবল হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞাটি স্থগিত করেছেন। তারা এখন পূর্ণাঙ্গ শুনানির অপেক্ষায় রয়েছেন।

বর্তমানে কুমিল্লা-৪ আসনে নির্বাচনী হাওয়া তুঙ্গে। বিএনপির এই প্রার্থীর ভাগ্য শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায়, এখন তা দেখার অপেক্ষায় ভোটাররা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts