আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করেই রাশিয়ার সামরিক বাহিনী গোপনে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্টারলিংক ইন্টারনেট টার্মিনাল সংগ্রহ করছে। অভিযোগ উঠেছে, এই স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রযুক্তি এখন রাশিয়ার সামরিক ড্রোন পরিচালনা এবং রণক্ষেত্রে উচ্চস্তরের যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

তদন্তে জানা গেছে, এই গোপন সরবরাহ নেটওয়ার্কের একটি অন্যতম প্রধান ট্রানজিট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি হয়েই অবৈধভাবে স্টারলিংক টার্মিনালগুলো রাশিয়ায় পৌঁছাচ্ছে। রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বা খোলা বাজার থেকে এই ডিভাইসগুলো কিনে ফ্রন্টলাইনে পাঠাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

স্টারলিংক মূলত ইউক্রেন যুদ্ধে কিয়েভকে কৌশলগত সুবিধা দিয়ে আসছিল। তবে রাশিয়ার হাতে এই প্রযুক্তির উপস্থিতি এখন রণক্ষেত্রের ভারসাম্য বদলে দিতে পারে বলে সামরিক বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা নিখুঁতভাবে পরিচালনা করতে এবং সুরক্ষিত যোগাযোগ রক্ষা করতে রুশ বাহিনী এই উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করছে।

স্টারলিংকের মূল প্রতিষ্ঠান স্পেস-এক্স এবং এর প্রধান ইলন মাস্ক বারবার দাবি করেছেন যে, রাশিয়ার সঙ্গে তাদের কোনো সরাসরি বাণিজ্যিক সম্পর্ক নেই এবং রুশ ভূখণ্ডে স্টারলিংক সেবা সক্রিয় নয়। তবে গোয়েন্দা তথ্য বলছে, ডনবাসের মতো দখলকৃত এলাকাগুলোতে টার্মিনালগুলো সক্রিয় রাখা সম্ভব হচ্ছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই অবৈধ সরবরাহ চেইন বন্ধ করতে এখন পশ্চিমা দেশগুলো নতুন করে চাপের মুখে রয়েছে। এই পাচার বন্ধ করা না গেলে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts