আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নিউ ইয়র্ক: নিউ ইয়র্ক সিটির ইতিহাসে যুক্ত হলো এক নতুন অধ্যায়। বর্ণাঢ্য এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সিটির ১১১তম এবং প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে শপথ নিলেন জোহরান মামদানি। স্থানীয় সময় গতকাল বিকেলে সিটি হলের সামনে আয়োজিত এই শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাজার হাজার মানুষ, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং ধর্মীয় নেতারা।

শপথ অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি আসে যখন জোহরান মামদানি তাঁর পরিবারের সযত্নে রাখা পবিত্র আল কোরআনে হাত রেখে শপথ বাক্য পাঠ করেন। নিউ ইয়র্কের মতো বিশ্ব রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে একজন মেয়রের এভাবে কোরআন হাতে শপথ নেওয়াকে ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক বড় বিজয় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

শপথ বাক্য পাঠ করান নিউ ইয়র্কের প্রধান বিচারপতি। মামদানি যখন দৃঢ় কণ্ঠে সংবিধান রক্ষার শপথ নিচ্ছিলেন, তখন সমবেত জনতা হর্ষধ্বনিতে তাঁকে অভিনন্দন জানায়।

দায়িত্ব গ্রহণের পর দেওয়া তাঁর প্রথম ভাষণে জোহরান মামদানি সিটির সকল ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণির মানুষের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, “আজকের এই দিনটি কেবল আমার নয়, বরং নিউ ইয়র্কের সেই লাখো মানুষের যারা স্বপ্ন দেখেন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের। আমি এমন এক নিউ ইয়র্ক গড়তে চাই যেখানে ধর্ম বা বর্ণের কারণে কাউকে বৈষম্যের শিকার হতে হবে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “পবিত্র কোরআন আমাকে ন্যায়বিচার ও আর্তমানবতার সেবার শিক্ষা দেয়। আমি সেই শিক্ষা এবং আমেরিকার সংবিধান—উভয়কেই পাথেয় করে এই শহর পরিচালনা করব।”

জোহরান মামদানি নিউ ইয়র্কের রাজনীতিতে একজন পরিচিত মুখ। এর আগে তিনি স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আবাসন সংকট নিরসন, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা এবং অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় তাঁর সোচ্চার ভূমিকা তাঁকে সাধারণ মানুষের প্রিয়জনে পরিণত করেছে। নির্বাচনে তিনি এক বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেন, যা নিউ ইয়র্কের প্রগতিশীল রাজনীতির নতুন জয়যাত্রা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মামদানির এই শপথ গ্রহণের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম প্রধান দেশের নেতারা তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জোহরান মামদানির এই উত্থান আমেরিকার রাজনীতিতে মুসলমানদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতারই বহিঃপ্রকাশ।

মেয়র হিসেবে মামদানির সামনে এখন অনেক চ্যালেঞ্জ। সিটির অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা এবং আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা তাঁর প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তবে তাঁর সমর্থকরা আশাবাদী যে, একজন ‘জনবান্ধব’ নেতা হিসেবে তিনি নিউ ইয়র্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts